বয়স ৩৮ ছুঁই ছুঁই, তবুও বিরাট কোহলি এখনও অমলিন। ব্যাট হাতে এখনও শাসন করেন রাজার মতো। সময়কে থামিয়ে রেখেছেন হাতে থাকা কাঠের দণ্ডখানা দিয়ে। কোহলির ক্যারিয়ার গ্রাফটাই বলে দেয়, কেন তিনি আধুনিক জামানার ক্রিকেটের একচ্ছত্র অধিপতি। তবে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর মহারাজা বদলে গেছেন। যদিও সেটা প্রতিপক্ষের জন্যও আরও বেশি ভয়ের কারণ। কোহলির এই বদলে যাওয়ার কারণ আসলে কি? একটু খোঁজার চেষ্টা করি।
বিরাট কোহলি মাঠে থাকা মানেই আলাদা করে একটা বাড়তি চাপ চেপে বসে প্রতিপক্ষের ঘাড়ে। শরীরী ভাষায় ঘায়েল করে ফেলে প্রতিপক্ষকে। এখন তাঁর যা বয়স, এসময় একজন ক্রিকেটার ব্যাট-প্যাড তুলে রাখেন সিন্দুকে। তবে কোহলি বলে কথা, এখনও তিনি ২৬ বছরের ছোকরা।
একটা পরিসংখ্যানে চোখ রাখা যাক, ২০২২ সালের শুরুতে তাঁর ফর্ম কোহলিসুলভ ছিল না। একই সময়ে ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব হারানোর ঘটনাও তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। সবাই ধরেই নিয়েছিল এই অধ্যায়টা একেবারেই শেষ। তবে রাজার বেশেই ফিরে আসেন কোহলি, রূপকথার ফিনিক্স পাখিও বলা যেতে পারে তাঁকে। আর এই আসাটা আগের চেয়ে বেশি নির্ভীক ও আক্রমণাত্মক।
অবসরের পর ছয় মাসের বিরতি ভেঙে মাঠে ফেরেন তিনি। এরপর যা করেছেন তা কোন বিশেষন দিয়েই বিশেষায়িত করা সম্ভব না। শেষ ১০টি ইনিংসে রান সংখ্যা ৮২৫, এর মধ্যে রয়েছে চারটি সেঞ্চুরি ও চারটি হাফ সেঞ্চুরি। তাঁর এমন সত্তা নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে আসলে কি?

একটু পেছনে ফিরে তাকালে কোহলি মূলত দলের ব্যাটিং অর্ডারের মূল স্তম্ভ ছিলেন। তাঁর কাজ ছিল পুরো ইনিংসটাকে নিজের কাঁধে বয়ে নেওয়া, দায়িত্ব নিয়ে খেলা। দলের দাবি মেটাতে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন সর্বদা।
তবে এখনের কোহলি একটু আলাদা। সেই চাপ নেই, নিজেকে প্রমাণের পালা চুকিয়েছে সেই কবেই। এখন তিনি নীল আকাশে উড়ে বেড়ানো ডানা মেলা স্বাধীন পাখি। তাঁর ভাষায়, ‘যেটা বদলেছে, তা হলো প্রথমত, আমি নিজেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমি আরও স্বাধীনভাবে খেলব। মানুষ আমার কাছে যে প্রত্যাশাগুলো করে, সেগুলো নিয়ে আমি আর ভাবব না।’
এ নিয়ে কোহলি আরও বলেন, ‘নিজের মনের মধ্যেই আমাকে সেই স্বাধীনতার জায়গাটা একটু খুলে দিতে হয়েছে। এটা আইপিএলেও আমাকে সাহায্য করেছে। একই স্বাধীনতা নিয়ে আমি খেলতে পেরেছি, কারণ আমি এটা ভাবছি না যে আমি আউট হয়ে গেলে আমাদের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যেতে পারে। আমার বিশ্বাস আছে, আমার আশপাশে এমন আরও অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, যারা পরিস্থিতি সামলে নিতে পারবে।’
মূলত নির্ভার মানসিকতাটাই নতুন কোহলির জন্ম দিয়েছে। ক্রিকেটটা এই ৩৮ বছরের কাছাকাছি এসে তাঁর কাছে শুধুই উপভোগ্য বস্তু। মাঠের সবুজ ঘাস মাড়িয়ে ২২ গজে আসবেন, রানবেন করবেন, ব্যস এটাই আপাতত বিরাট কোহলির কাজ।










