দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন ভ্যান্ডারসন, রাফিনহা, ব্রুনো গুইমারেস ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র, আর অস্ট্রেলিয়ার দুই গোল সার্কাতি ও মেটকাফের। স্কোর দেখে ম্যাচটাকে একপেশে ভাবলে ভুল হবে, কারণ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া পুরো ম্যাচ সমানে সমানে লড়েছে।
আনচেলত্তি আগের ম্যাচের ৪-২-৪ ছেড়ে ফিরেছিলেন ৪-৩-৩-এ। মাঝমাঠে তিনজন রেখে দলে ভারসাম্য আনতে চেয়েছিলেন। রাফিনহা খেলছিলেন মাঝখানে, দুই পাশে ভিনিসিয়াস আর রায়ান। অন্যদিকে পপোভিচের অস্ট্রেলিয়া নামে ৩-৪-৩ ছকে, দুই উইংব্যাক আর সামনে তিন আক্রমণকারী নিয়ে। শুরুটা ছিল পুরোপুরি ব্রাজিলের। তৃতীয় মিনিটেই ডান দিক থেকে উঠে আসা ভ্যান্ডারসন বক্সের কোণ থেকে দারুণ শটে গোল করেন। এর পরপরই রাফিনহার দুটো শট গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। শুরুর কয়েক মিনিট অস্ট্রেলিয়া বলই ঠিকমতো পাচ্ছিল না।
তারপর ম্যাচটা ঘুরে যায় সেট পিস আর দুই প্রান্তের খেলায়। ২৮ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল ব্রাজিলের এক খেলোয়াড়ের মাথা ছুঁয়ে সার্কাতির কাছে গেলে তিনি পেছন দিকে পা তুলে গোড়ালি দিয়ে বল জালে ঢুকিয়ে দেন। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠেছিল, কিন্তু ভিএআর গোল বহাল রাখে। পাঁচ মিনিট পরই বাম দিকে দুটো ওয়ান-টু খেলে মেটকাফ বক্সের বাইরে থেকে ওপরের কোণে শট নেন, স্কোর লাইন তখন দাঁড়ায় ২-১ এ। ব্রাজিলের একেবারে নতুন ব্যাকলাইন এই দ্রুত পাসের সামনে বারবার এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল।

বিরতির ঠিক আগে ব্রাজিল সমতায় ফেরে। ৪৩ মিনিটে বক্সের ভেতর সাউটারের ফাউলে পেনাল্টি পায় তারা, আর রাফিনহা সেটা থেকে গোল করেন, এর আগে থেকেই ভিনিসিয়াস বাম দিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার রাইট উইংব্যাকের ওপর একটানা চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আনচেলত্তি রাফিনহাকে তুলে বদলি স্ট্রাইকার নামান, যাতে বক্সে সরাসরি একজন থাকে। একের পর এক কর্নার আদায় করে ব্রাজিল চাপ বাড়াতে থাকে। ৬১ মিনিটে ম্যাচ নিজেদের দিকে নেওয়ার সেরা সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কর্নারের পর ডি বক্সের ভেতর দুটো হেড হয়, কিন্তু দুটোই লক্ষ্যে থাকেনি। সেই মুহূর্তেই ব্রাজিল একসঙ্গে তিনটি বদল করে, ডান দিকে গতি বাড়ায়, মাঝমাঠে নতুন শক্তি আনে। এর দাম মেটাতে হলো অস্ট্রেলিয়াকে। ৬৯ মিনিটে বদলি স্ট্রাইকারের বাড়ানো বলে কাছ থেকে গোল করেন ব্রুনো গুইমারেস। ৮০ মিনিটে ইরানকুন্ডার ফাউলে আরেকটি পেনাল্টি, আর ভিনিসিয়াস নিজেই নিচু শটে বল জালে পাঠান।
ম্যাচের উত্তাপ শুধু খেলায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুই দলের খেলোয়াড়েরা হাতাহাতিতেও জড়ান, যা প্রীতি ম্যাচে মোটেও ভালো দেখায়নি। ৬৮ মিনিটে দুই দলের একজন করে হলুদ কার্ড দেখেন। এমন ম্যাচে মাথা ঠান্ডা রাখাটাই আসল পরিপক্কতা।

শেষ বিচারে ব্রাজিল জিতেছে বেঞ্চের গভীরতা আর দ্বিতীয়ার্ধের চাপের জোরে। তবে সেট পিস আর দ্রুত পাসের বিপক্ষে তাদের রক্ষণের দুর্বলতা আবারও ধরা পড়েছে। অস্ট্রেলিয়া সাহসী বিল্ড আপ আর সেট পিসে ব্রাজিলকে ভালোই বিপাকে ফেলেছে, কিন্তু ডি বক্সে সুযোগ নষ্ট আর বক্সের ভেতর দুটো অসাবধানতার দাম দিতে হয়েছে। ভালো ফিনিশার থাকলে ফলটা অন্যরকমও হতে পারত।











