সার্বিয়াকে হারিয়ে জাভির প্রথম সাফল্য

উয়েফা নেশনস লিগে সার্বিয়াকে ১-২ গোলে হারিয়ে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। নতুন কোচ জাভি হার্নান্দেজের অধীনে দলটির সুপরিকল্পিত ট্যাকটিকাল পরিবর্তন এবং স্ট্রাইকার মেক্স মারডিঙ্কের জোড়া গোলই এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।

উয়েফা নেশনস লিগে সার্বিয়াকে ১-২ গোলে হারিয়ে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। নতুন কোচ জাভি হার্নান্দেজের অধীনে দলটির সুপরিকল্পিত ট্যাকটিকাল পরিবর্তন এবং স্ট্রাইকার মেক্স মারডিঙ্কের জোড়া গোলই এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। পুরো ম্যাচে ডাচদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সার্বিয়ার প্রতিআক্রমণ কৌশল প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতে ম্যাচকে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলে।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেদারল্যান্ডস বল দখলে রেখে খেলার ওপর জোর দেয়। কাগজে-কলমে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দল নামালেও, বল যখন ডাচদের পায়ে ছিল, তখন জাভি হার্নান্দেজ দলকে একটি আধুনিক ৩-২-৪-১ সিস্টেমে রূপান্তর করেন। এতে ফুলব্যাকরা আক্রমণভাগে ওপরে উঠে এসে উইং জুড়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি করেন।

প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে টানা আক্রমণের মুখে পড়ে সার্বিয়া। আর এতেই ভুল করে বসে সার্বিয়ান ডিফেন্স এবং অর্জিত পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে নেন মেক্স মারডিঙ্ক।

সার্বিয়ার কোচ প্রথম থেকেই ডাচদের বলের দখল ছেড়ে দিয়ে একটি শক্ত লো ব্লক ডিফেন্সিভ লাইন তৈরি করেন। সার্বিয়ার মূল কৌশলই ছিল ডাচ ডিফেন্সের পেছনে থাকা ফাঁকা জায়গায় দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক চালানো।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর বিরতির পরপরই নামানো হয় লুকা জোভিচকে। ৪৬ মিনিটে ডাচ মিডফিল্ডের একটি ভুল পাস থেকে দ্রুত গতিতে প্রতিআক্রমণে যায় সার্বিয়া। বদলি হিসেবে নেমেই প্রথম ছোঁয়াতেই ডাচ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে সার্বিয়াকে সমতায় ফেরান জোভিচ।

সমতায় ফেরার পর সার্বিয়া ম্যাচ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও জাভি হার্নান্দেজ মাঝমাঠে প্রেসের তীব্রতা বাড়িয়ে দেন। সার্বিয়ার ৩-৫-২ রক্ষণের দুই উইং ব্যাক ও সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের মধ্যবর্তী হাফ স্পেস বা পকেট স্পেসগুলো ক্রমাগত ব্যবহার করতে শুরু করে ডাচ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডাররা।

ম্যাচের ৬৯ মিনিটে গুস তিল ঠিক তেমনই এক হাফ স্পেসে বল পেয়ে সার্বিয়ান ডিফেন্ডারদের টেনে বের করে নেন এবং বক্সের ভেতর ফাঁকা জায়গায় থাকা মারডিঙ্ককে গোলমুখী পাস দেন। মারডিঙ্ক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি করেন।

সার্বিয়া কম বল পজেশন নিয়েও বেশ কয়েকবার ডাচ ডিফেন্সকে পরীক্ষা করেছে। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের উচ্চগতির পজেশনাল ফুটবল এবং চূড়ান্ত মুহূর্তে ডাচ ফরোয়ার্ডদের নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাই তাদের তিন পয়েন্ট এনে দেয়।

জাভি হার্নান্দেজের অধীনে এটিই ছিল ডাচদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত জয়। যেখানে তরুণ মেক্স মারডিঙ্ক নিজেকে জাতীয় দলের প্রধান স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জোরালো দাবি জানিয়ে রাখলেন।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link