ফলাফল ১-০। তবে স্কোরলাইন পুরো গল্প বলে না। গল্পটা শুরু হয় ধীর গতিতে, আর শেষ হয় রিয়াল মাদ্রিদের নিয়ন্ত্রিত জয়ে।
প্রথমার্ধটা পুরোপুরি জুভেন্টাসের। বল দখল, আক্রমণ, ছন্দ—সব ছিল তাদের দখলে। শুরুতেই কোলো মুয়ানি খুব কাছ থেকে বল ‘লব’ করেন কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন নি। বল গোল পোস্টের উপর দিয়ে উড়ে যায়।ইয়িলদিজের দুরপাল্লার শটটাও ততটাই বিপজ্জনক ছিল, পোস্ট ছুঁয়ে যেন পাশ কাটিয়ে চলে যায় ভাগ্য।
মাদ্রিদের প্রথম জাগরণ আসে বেলিংহ্যামের পায়ে। বক্সে ঢুকে শট নেন, গোলরেখা থেকে বলটা ক্লিয়ার করে জুভেন্টাস। তারপর ভ্যালভার্দে, দুরপাল্লার শটে কাপিয়েছেন জুভেন্টাসের রক্ষন, ডি গ্রেগরিও সেই বল ঠেকিয়েছেন অসাধারণ দক্ষতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের রং। মাদ্রিদ নিয়ন্ত্রণ নেয়। মাঠে বাড়ে পাসের ছন্দ, ছড়িয়ে পড়ে গতি। আর তখনই আসে সেই মুহূর্ত, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের মাদ্রিদ ক্যারিয়ারের প্রথম অ্যাসিস্ট।

৫৪ মিনিটে ডানদিক থেকে নিখুঁত এক ক্রস, গঞ্জালো গার্সিয়া মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন। ৪ ম্যাচে ৩ গোল ১ অ্যাসিস্ট। এন্ড্রিকের ইঞ্জুরিতে ব্যাকআপ স্ট্রাইকারের পজিশন সম্ভবত নিজের দখলেই নিয়ে নিলেন গার্সিয়া।
৭০ মিনিট পেরোতেই আর্দা গুলার দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতে পারতেন। পুরো দল মিলে গড়ে তোলে সেই আক্রমণ কিন্তু গোলরক্ষক ডি গ্রেগরিও আবারও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান।
এরপর মাঠে নামেন কিলিয়ান এমবাপে। চোট কাটিয়ে ফিরলেও ছন্দ পেতে পারেননি। আক্রমণে বারবার দ্বিধা, পাসে ভুল বোঝাবুঝি। মাদ্রিদ আক্রমণ কিছুটা থমকে যায়। তবে এম্বাপ্পের মাঠে ফেরাটাই এই মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের সবথেকে বড় স্বস্তি।
ম্যাচটা মাদ্রিদেরই ছিল। ১-০ গোলে জয়, কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত। খুব দাপট নয়, তবে নিয়ন্ত্রিত, পরিণত ফুটবল। জাবি আলোনসোর অধীনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে মঞ্চে আলো জ্বাললেন গার্সিয়া আর ট্রেন্ট, আর ছায়ায় থেকে গড়ে দিলেন বাকিরা।











