রিয়াল ইমপ্যাক্ট যেন এক অক্টোপাস। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে প্রতিষ্ঠানটি। যখন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে বাকিদের নাজেহাল অবস্থা, তখনও দিব্যি বহাল তবিয়তে বাংলাদেশের ক্রিকেটে টিকে ছিল রিয়াল ইম্প্যাক্ট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড–এর সঙ্গে রিয়াল ইমপ্যাক্টের সম্পর্কের শুরু নাজমুল হাসান পাপন যখন সভাপতি ছিলেন। ক্রিকেট মহলে বহুদিন ধরেই একটা কথা চাওড় আছে- বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের কর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা দারুণ দক্ষ।
২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়, তাতে বিসিবিতেও আসে পরিবর্তন। সভাপতির দায়িত্ব নেন ফারুক আহমেদ। কিন্তু বোর্ডের এই পালাবদল রিয়াল ইমপ্যাক্টের অবস্থানে কোনো বড় ধাক্কা দিতে পারেনি। এখনো তারা হোম সিরিজের স্পোর্টস টিভি প্রোডাকশন পার্টনার। এই সম্পর্কের স্থায়িত্বকাল ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
বোর্ডের ভেতরের অনেকের ধারণা, এই টিকে থাকার পেছনে মূল শক্তি হলো বোর্ড পর্যায়ের সম্পর্ক। পাপনের বিদায়ের পর বিসিবির অন্দরমহলে রিয়াল ইমপ্যাক্টের অধ্যায় বুঝি শেষের পথে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি বদলে যায় হঠাৎ করেই।ধারণা করা হয় দুবাইয়ে রিয়াল ইম্প্যাক্ট কর্তাদের সাথে একটা বৈঠকে বসেছিলেন বিসিবির প্রভাবশালী বোর্ড কর্তারা। সেই বৈঠকের পর আর কোন উচ্চবাচ্য হয়নি রিয়াল ইম্প্যাক্টকে ঘিরে। তবে তার আগে, রিয়াল ইম্প্যাক্টের সম্প্রচারের মান ও খরচ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ আসরে বিসিবি অবশ্য বড় সিদ্ধান্ত নেয়। দীর্ঘদিনের প্রোডাকশন পার্টনার রিয়াল ইমপ্যাক্টকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানের ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বোর্ডের ঘোষিত ‘নতুন প্রোডাকশন স্ট্যান্ডার্ড’-এর সঙ্গে মিল রেখেই নেওয়া হয়েছিল এই সিদ্ধান্ত।
ফলও মিলেছে। প্রোডাকশন মান নিয়ে ব্যাপক প্রশংসার পাশাপাশি আগের তুলনায় বিসিবির সাশ্রয় হয় প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই পারফরম্যান্সের পর বোর্ডের একটি অংশ আসন্ন পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজগুলোতে ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিসকেই এগিয়ে রাখতে চেয়েছিল। তিন সিরিজ মিলিয়ে রয়েছে দুটি টেস্ট, নয়টি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি—যেখানে প্রোডাকশন খরচ কমিয়ে বিসিবির অন্তত আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাঁচানোর সুযোগ ছিল।
কিন্তু সেই সুযোগ যেন বিনষ্ট হওয়ার পথে। বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র মতে, ২২ ফেব্রুয়ারির বোর্ড সভায় এক প্রভাবশালী পরিচালক রিয়াল ইমপ্যাক্টের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিস প্রোডাকশন মানে এগিয়ে থাকার প্রমাণ দেওয়ার পরও রিয়াল ইমপ্যাক্টকে বহাল রাখার পক্ষে কথা বলেন তিনি। চুক্তির মেয়াদ এখনো এক বছর বাকি- এই যুক্তি সামনে আনা হয়। তবে বোর্ড সন্তুষ্ট না হলে সার্ভিস প্রোভাইডারের চুক্তি বাতিল করার নজির যে নেই, তা কিন্তু নয়। তবুও রিয়াল ইম্প্যাক্ট টিকে যাচ্ছে অদৃশ্য ক্ষমতাবলে।












