রিয়াল মাদ্রিদে নেক্সট মেসি’

মাত্র ১৭ বছর বয়স, কিন্তু ইউরোপের ট্রান্সফার মার্কেট ইতিমধ্যেই চিনে ফেলেছে তাঁকে। রিভার প্লেটের সেই বিস্ময়বালক ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোকে এবার দলে টেনে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে তাঁকে নিয়ে আলোচনায় হয় ভিন্ন আরেক কারণে! অনেকে তাকে দেখছেন ‘নেক্সট মেসি’ হিসেবে।

মাত্র ১৭ বছর বয়স, কিন্তু ইউরোপের ট্রান্সফার মার্কেট ইতিমধ্যেই চিনে ফেলেছে তাঁকে। রিভার প্লেটের সেই বিস্ময়বালক ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোকে এবার দলে টেনে নিল রিয়াল মাদ্রিদ।

অফিশিয়ালি নিজেদের ওয়েবসাইটে এই ঘোষণাই দিয়েছে ইউরোপের অন্যতম সফল ক্লাবটি। মেসির দেশ থেকে এই তরুণের আগমন ঘিরে আবারও আলোচনায় আর্জেন্টাইন প্রতিভা। আনহেল দি মারিয়ার পর দীর্ঘ ১৪ বছর পর কোনও আর্জেন্টাইন ফুটবলার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নাম লেখালেন।

মাস্তানতুয়োনোর গল্প শুরু বুয়েনস আইরেসের আজুল শহরে। ছোটবেলায় সমানতালে খেলেছেন ফুটবল ও টেনিস—শেষ পর্যন্ত ফুটবলই বেছে নেন। রিভার দি আজুলে ফুটবলের হাতেখড়ি । এরপর ক্লাব সিমেন্টো হয়ে যোগ দেন রিভার প্লেটে। সেখানেই নিজেকে গড়ে তোলেন দেশের সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে।

২০২৩ সালের শেষদিকে প্রথমবারের মতো সুযোগ পান রিভারের মূল দলে। এর পর যা করেছেন, তা রীতিমতো রূপকথা। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে রিভারের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়েন।আর চলতি মাসেই চিলির বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ান মাত্র ১৭ বছর ৯ মাস ২২ দিন বয়সে—আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে অফিশিয়াল ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন তাঁর ঝুলিতে।

তবে তাঁকে নিয়ে আলোচনায় হয় ভিন্ন আরেক কারণে! অনেকে তাকে দেখছেন ‘নেক্সট মেসি’ হিসেবে। বাঁ পায়ের দক্ষতা তাঁর মূল অস্ত্র, তবে স্পিড কিছুটা কম। পজিশনিং নম্বর ১০-এর মতো, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ছোট জায়গায় বল রাখা, লক্ষ্য স্থির করা আর দূরপাল্লার শটে তাঁর আলাদা একটা চরিত্র তৈরি হয়েছে।

রিভার প্লেট জানিয়েছে, মাস্তানতুয়োনোকে দলে নিতে মাদ্রিদ ব্যয় করেছে মোট ৬ কোটি ৩২ লাখ ইউরো। এই ট্রান্সফার এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা থেকে হওয়া সবচেয়ে দামি। এনজো ফার্নান্দেজের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছেন মাস্তানতুয়োনো।

রিয়ালের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত। প্রতি মৌসুমে বেতন পাবেন প্রায় ৩৫ লাখ ইউরো। ক্লাবটি তাঁর রিলিজ ক্লজ বেঁধে দিয়েছে ১০০ কোটি ইউরোতে—এক কথায় ভবিষ্যতের জন্য বিরাট জুয়া খেলেছে তারা।

তবে এখনই রিয়ালে নাম লেখাতে পারবেন না মাস্তানতুয়োনো। আগামী আগস্টে ১৮ বছর পূর্ণ হলে মাদ্রিদে যোগ দেবেন। তার আগে ক্লাব বিশ্বকাপে রিভার প্লেটের জার্সিতেই দেখা যাবে তাঁকে। তাই তো ফুটবলবিশ্ব এখন অপেক্ষায়, এই তরুণকে ইউরোপের মঞ্চে দেখার।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link