ক্রিকেট শুধু রান আর উইকেটের খেলা নয়, পরিস্থিতি ভেদে তা মানসিক দৃঢ়তা আর সাহসের এক মঞ্চ। সম্প্রতি তার উজ্জল প্রমাণ দিয়েছেন ইংলিশ লেগ স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার রেহান আহমেদ। বিশ্বমঞ্চে তার এই হার না মানা মানসিকতাটুকুর অভাবই ছিল গত বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মধ্যে।
স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে গত বিশ্বকাপের সেই বিষাদময় মুহূর্ত। সেমিফাইনালের টিকিট পেতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৯ বলে ৪৩ রান। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যখন ক্রিজে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশার পারদও ছিল তুঙ্গে।
কিন্তু সেই মাহেন্দ্রক্ষণে তাঁর ব্যাটে দেখা গেল অদ্ভুত এক জড়তা। যেখানে বাউন্ডারির বন্যায় প্রতিপক্ষকে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা, সেখানে সেই চেষ্টাটুকুও যেন করলেন না রিয়াদ।

নূর আহমেদের করা পরপর পাঁচটি ডেলিভারিই খেললেন রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে। স্কোরবোর্ডে যোগ করতে পারলেন না একটি রানও। সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য যেখানে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে আক্রমণে নামার কথা, সেখানে রিয়াদ যেন ভুলেই গিয়েছিলেন বলের রঙটা লাল নাকি সাদা।
ঐ এক ওভারই বাংলাদেশকে পরাজয়ের নীল নকশা এঁকে দিয়েছে। চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন।
অথচ এই একই পরিস্থিতিতে উইল জ্যাক্সকে সাথে নিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে উঠেছেন রেহান আহমেদ। তরুণ রেহান আহমেদ যখন ১৮ বলে ৪৩ রানের কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়ান, তখন তার ব্যাটে ছিল অদম্য জেদ। শুন্য রানে থাকা রেহান রানের খাতা খুলেন ছক্কা হাঁকিয়ে। সেখানে ফলাফলের চাইতেও যা বেশি গুরুত্ব পায় তা হচ্ছে ‘ইন্টেন্ট’।

ফলাফলও অবশ্য নিজেদের পক্ষেই এনেছেন তিনি। সাত বলে ১৯ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে তিন বল হাতে থাকতেই দলের জয় নিশ্চিত করেছেন রেহান।
পিচ মন্থর ছিল কিংবা প্রতিপক্ষের বোলিং ধারালো – এসব অজুহাত ধোপে টিকে না যখন সাহসের প্রশ্ন আসে। যে মাহমুদউল্লাহ ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফিতে ১৮ বলে ৪৩* রানের অবিশ্বাস্য এক রূপকথা লিখেছিলেন, সেই একই ব্যাটার যখন বিশ্বকাপের মঞ্চে লড়াই করার মানসিকতা হারান, তখন ভক্তদের কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক।
১৮ বলে ৪৩ এই সমীকরণটি এখন লাল-সবুজ ভক্তদের জন্য শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং একরাশ দীর্ঘশ্বাস আর না পাওয়ার আক্ষেপ। একজন তরুণের সাহস আর একজন অভিজ্ঞতার পিছুটান, এই দুইয়ের ব্যবধানই ক্রিকেটের আসল ট্র্যাজেডি।










