রোহিতের বিকল্প খুজছে ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে লজ্জ্বাজনক বিদায়ের পর থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটে পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টির বর্তমান অধিনায়ক রোহিত শর্মার নেতৃত্বে সন্তুষ্ট নন ভারতীয় ক্রিকেটাররা সহ বাইরের দেশেরও অনেকেই। পরবর্তী বিশ্বকাপ দুই বছর পর হওয়ায় এখন থেকেই নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে ভবিষ্যতের দল গোছাতে মতামত দিয়েছেন অনেকেই।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লজ্জ্বাজনক হারের পর জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ভারতীয় টি টোয়েন্টি দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের। বিশেষ করে ভারতের খেলোয়াড়দের মানসিক এপ্রোচ পছন্দ হয় নি সাবেক অনেক তারকা খেলোয়াড়ের। বিভিন্ন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তারা দাবি করেছেন, রোহিতের নেতৃত্বে এই দল টি টোয়েন্টি খেলার জন্য উপযুক্তই না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ভেতরে লড়াই করার কোন মানসিকতায় দেখা যায় নি বলে জানান সাবেক খেলোয়াড়দের অনেকেই।

১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য এবং সাবেক ভারতীয় ওপেনার কৃষ্ণামাচারী শ্রীকান্ত সম্প্রতি ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার স্পোর্টস এর খেলাধুলা বিষয়ক অনুষ্ঠান ম্যাচ পয়েন্টে বলেন, ‘দেখুন, আমি যদি নির্বাচক কমিটির প্রধান হতাম তবে এখনই বলে দিতাম যে ২০২৪ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধিনায়ক হবেন হার্দিক পান্ডিয়া।’

কারণ হিসেবে সাবেক এই ওপেনার বলেন, ‘দেখুন, যখন আপনি পরিবর্তন করতে চাইবেন তখন প্রথম দিন থেকেই করুন। এতে আপনি যথেষ্ট সময় পাবেন একটা পারফেক্ট দল গড়ে তোলার।আপনার যত যাচাই বাছাই করার দরকার আপনি এখন থেকেই শুরু করুন। যত ভুল আছে,শুরু থেকেই ধরা পড়বে। আপনি যদি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করেন তবে আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে আপনি পুরোপুরি প্রস্তুত একটা দল পেয়ে যাবেন।আর এরপরের বছর সেই দলটাকে একসাথে খেলানো হলে দল পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরিভাবে তৈরি থাকবে।’

অপরদিকে আরেক সাবেক পেস বোলার অতুল ওয়াসান ও ভারতীয় ক্রিকেটের এই নতুন শুরু নিয়ে সাক্ষাৎকারে একই ঘরানার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন আমি সত্যিই মনে করি যে অধিনায়ক হিসেবে ভারতীয় দলে রোহিত শর্মার সময় ফুরিয়ে এসেছে। আমরা সবাই জানি যে কোন দলই এক বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার সাথে সাথে পরবর্তী বিশ্বকাপ এর জন্য প্রস্তুতি নেয়। পরবর্তী বিশ্বকাপ এখন থেকে আরও দুবছর পরে। তাই আমি মনে করিনা সে পর্যন্ত রোহিতকে অধিনায়ক হিসেবে রেখে আমরা তার থেকে আর ভাল কিছু পাব।’

কে অধিনায়ক হতে পারেন এমন প্রশ্নে সাবেক এই পেস বোলার বলেন, ‘দেখুন গত বিশ্বকাপে আমরা যে ধরনের খেলা খেলেছি তাই সত্যিই লজ্জ্বাজনক। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ ব্যাতীত আমরা কোন পাওয়ার প্লেতেই ৪৫ বেশিও রান তুলতে পারিনি। যেখানে আমাদের খেলা উচিত আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে, সেখানে এসবের কিছুই দেখিনি। তাই আমার মতে এমন কাউকে অধিনায়ক বানানো উচিত যে কিনা নিজের সাথে সাথে দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ফিরিয়ে আনতে পারে। আর সেজন্য আমি মনে করি এই মুহুর্তে দুইজন খেলোয়াড়ই সবার চোখের সামনে আছে। হার্দিক পান্ডিয়া এবং ঋষাভ পান্ত।’

শুধু এখানেই থেমে যাননি তিনি। সেই সাথে সেমিফাইনালে হারের জন্য রোহিত শর্মার অধিনায়কত্বকেও ধুয়ে দিয়েছেন এই সাবেক পেসার। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাসই করতে পারছি না। দেখে যেন মনে হচ্ছিল ভারত আবুধাবিতে ব্যাট করছে আর ইংল্যান্ড অ্যাডিলেডে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটা উইকেট ও ফেলতে না পারাকে শঙ্কাজনক বলে মনে করছেন তিনি। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তাছাড়া প্রতিপক্ষ যখন এরকম খেলবে, অধিনায়ক হিসেবে আপনার বেশ কিছু পরিকল্পনা থাকবেই।কিন্তু মাঠে রোহিতকে কোনো পরিকল্পনা করতেই দেখা যায় নি। আমি মনে করিনা ম্যানেজমেন্ট ওকে বাইরে থেকে যেসব পরিকল্পনা দিয়েছিল তার একটাও মাঠে বাস্তবায়ন করেছে রোহিত। উলটো সে মাঠে সবসময়ই নিজেকে লুকাতেই ব্যস্ত ছিল।’

অপরদিকে আরেক সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার এবং ভারতীয় দলের সাবেক কোচ রবি শাস্ত্রীও বিশ্বকাপ পরবর্তী ভারতীয় দলে পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন। শাস্ত্রী প্রাইম ভিডিও’র এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দেখুন টি-টোয়েন্টি তে একটা নতুন অধিনায়ক থাকা ক্ষতিকর কিছু নয় বলেই আমি মনে করি। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে খেলার যে ধরণ,তার ওপর একটা খেলোয়াড়ের একই সাথে তিন ফরম্যাটে খেলে যাওয়া অনেক কঠিন। যেহেতু রোহিত অলরেডিই ভারতকে টেস্ট এবং ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিচ্ছেই,তাই আমি মনে করি না যে টি টোয়েন্টিতে নতুন কাউকে অধিনায়ক করলে তাতে কোন ক্ষতি হবে।’

সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী আস্থা রাখেন হার্দিকের ওপর। তিনি বলেন, ‘আর আপনার সামনে যখন হার্দিক পান্ডিয়ার মত একজন রয়েছে তখন আপনাকে দ্বিতীয় বার ভাবা উচিতও না তাকে অধিনায়কত্ব দেয়ার বিষয়ে।’

ভারত ক্রিকেট দল বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে তিন ম্যাচ টি টোয়েন্টি খেলতে অবস্থান করছে। সেখানে দলের নিয়মিত অধিনায়ক রোহিত শর্মা, সহ অধিনায়ক লোকেশ রাহুল এবং সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলিসহ আরও বেশ কিছু খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। সেই সাথে দলের নিয়মিত কোচ রাহুল দ্রাবিড় কেও বিশ্রাম দিয়ে আরেক ব্যাটিং মায়েস্ত্রো ভিভিএস লক্ষণকে দলের কোচের দায়িত্ব দিয়েছে।

সেই প্রসঙ্গে রবি শাস্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি এটাই আসল পথ সামনে এগোনোর। ভিভিএস(লক্ষণ)-ই ঠিক আছে। ও চায় এ ফরম্যাটের জন্য স্পেশালিষ্ট খুজে বের করতে। আমিও মনে করি, ও স্পেশালিষ্ট এর সাথে সাথে ভারতকে দারুণ এক ফিল্ডিং দল এবং সর্বোপরি দারুণ এক টি টোয়েন্টি দলে পরিণত করবে যারা কিনা একদম ভয়ডরহীন ক্রিকেটটাই খেলবে।’

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link