স্নায়ুযুদ্ধে মুন্সিয়ানা হাসিল করে ফেলেছেন রিপন মণ্ডল

দুই ছক্কা হাঁকিয়ে মঈন যখন জয় প্রায় দেখে ফেলেছিলেন- ঠিক সেই মুহূর্তে রিপন পাশার দান পালটে দিলেন। তানজিদ হাসান তামিমের দারুণ ক্যাচের সহয়তায় মঈনকে ফেরালেন প্যাভিলিয়নে।

১৯ তম ওভারের প্রথম দুই বলে দুই ছক্কা হজম রিপন মণ্ডলের। সামনে তার অভিজ্ঞতায় টইটম্বুর মঈন আলী। তবুও বিচলিত হলেন না রিপন। সিলেট টাইটান্সের জয়ের জন্য প্রয়োজন ১০ বলে ১৩। এমন কঠিন মুহূর্তে নার্ভ ধরে রাখার জন্যই তো রিপন প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সর্বত্র। এদিনও তার ব্যতিক্রম ঘটল না।

দুই ছক্কা হাঁকিয়ে মঈন যখন জয় প্রায় দেখে ফেলেছিলেন- ঠিক সেই মুহূর্তে রিপন পাশার দান পালটে দিলেন। তানজিদ হাসান তামিমের দারুণ ক্যাচের সহয়তায় মঈনকে ফেরালেন প্যাভিলিয়নে। খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস পরিণত হল উচ্ছ্বাসে। যদিও তখনও পরাজয়ের শঙ্কা যায়নি উবে।

নাসুম আহমেদ ছিলেন ব্যাটিং প্রান্তে। তিনিও যে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন ব্যাট হাতে- তা নিশ্চয়ই কারো অজানা নয়। রিপন সেই নাসুমকেও পরিণত করলেন নিজের শিকারে। এদফা উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের দস্তানায় বন্দী হন নাসুম। দুই ছক্কা হজমের পরও দৃঢ়তার সাথে কামব্যাক করেন রিপন। দলের স্বপ্নের প্রদীপে এক বালতি জ্বালানি ঢেলে দেন তিনি, স্নায়ুর সাথে যুদ্ধে জিতে।

ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে রিপনের এই মানসিক দৃঢ়তা ক্রমশ তাকে জাতীয় দলের আরেকটু কাছে নিয়ে যাচ্ছে। এদিন ম্যাচসেরার পুরষ্কারও তিনিই বাগিয়ে নিয়েছেন। কেননা এদিন যে সিলেট টাইটান্সের উইকেট শিকারের যাত্রা শুরু হয় তারই হাত ধরে। তৌফিক খান তুষারকে তিনি ফেরান নতুন বল হাতে।

এছাড়াও আফিফ হোসেন ধ্রুবর উইকেট তুলে নিয়ে তিনি সিলেটের উপর চাপ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন। যার ফলশ্রুতিতে তার দল শেষ অবধি পেয়েছে পাঁচ রানের বেশ কষ্টার্জিত জয়। রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের এই বোলার চার ওভারে রান বিলিয়েছেন ৩৪টি। কিন্তু ইকোনমি রেট একজন বোলারকে পরিমাপের মূল স্তম্ভ নয়- সেটাই তো বুঝিয়ে গেলেন রিপন।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link