রিপন মন্ডল যেন ফিরিয়ে নিয়ে এলেন লাসিথ মালিঙ্গার যুগ। বলে-কয়ে ইয়োর্কার মারাটাকে বানিয়েছেন নিজের সবচেয়ে সেরা অস্ত্র। সেই অস্ত্রের সামনে আরও একবার কুপোকাত করলেন পাকিস্তান শাহিনসের ব্যাটারদের। সেই সাথে নিজের নামের পাশে ‘ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট’-এর ট্যাগটা লাগিয়ে নিলেন।
সেমিফাইনালে ভারত বধের নায়ক ছিলেন রিপন। তবে এক ম্যাচ দিয়ে তাঁর বিশেষত্ব বর্ণনা করাটা একটু অপরাধই বইকি। পুরো আসরজুড়ে যেভাবে ছড়ি ঘুরিয়েছেন, প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছেন তাতে এই রিপন যে একটু বিশেষ কেউ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে। শুধু তাই নয়, টুর্নামেন্টে ১১ উইকেট শিকার করে রয়েছেন সবার উপরে।
বাংলাদেশি কোনো বোলার একের পর এক ইয়োর্কার করবেন এটা দেখা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতোই দূরহ ব্যাপার। তবে রিপন সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অদৃশ্য মিশনে নেমেছেন।

পাকিস্তান শাহিনসের বিপক্ষে আরও একবার সেই প্রমাণটাই রাখলেন। প্রথম তিন ওভারে ২৪ রান দিয়েও উইকেট শূন্যই থেকেছেন। তবে নিজের সেরাটা বোধহয় জমিয়ে রেখেছিলেন ১৯তম ওভারের জন্য। সবকিছু যেন সুদে-আসলে মিটিয়ে নিলেন।
ঐ ওভারের দ্বিতীয় বলে ইয়োর্কার মেরে শাহিদ আজিজকে ফেরান। এরপরের আঘাত চতুর্থ বলে। সেট হওয়া সাদ মাসুদ ওই ভয়াল ইয়োর্কার সামলাতে না পেরে ফিরলেন সাজঘরে। পরের বলে আবারও সেই ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের প্রয়োগ ঘটালেন রিপন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই উবাইদ শাহ বিদায় নিলেন। ওই ওভার থেকে মোটে দুই রান খরচায় করলেন তিন শিকার। সেই সাথে বাংলাদেশের বোলিং তোপে পাকিস্তানও থেমে যায় মাত্র ১২৫ রানে।
ভারতের বিপক্ষেও রিপনের ১৯তম ওভারটাই ম্যাচে ফিরিয়েছিল বাংলাদেশ। সুপার ওভারের বীরত্ব বাদ দিলেও ওই একটা ওভার ছিল টার্নিং পয়েন্ট। পাকিস্তানের বিপক্ষেও একই কাজ করলেন আবারও। ডেথ ওভারে রিপন যেন সত্যিই ভয়ঙ্কর এক নাম।












