হোবার্ট থেকে মিরপুর, রিশাদের পারফরমেন্সের ধারা অবিচল

তাসমান পাড়ে নিজের সক্ষমতার ঝাণ্ডা উড়িয়ে রিশাদ হোসেন খেলতে নামলেন দেশের মাটিতে। পরিবেশ যেমনই হোক, চাপ যতই থাকুক- রিশাদ এখন এক অবিচল পাহাড়। 

তাসমান পাড়ে নিজের সক্ষমতার ঝাণ্ডা উড়িয়ে রিশাদ হোসেন খেলতে নামলেন দেশের মাটিতে। জাতীয় দলের ভবিষ্যত ভাবা হয় যাদের, তাদের চোখে ঘূর্ণির ধুলো ছুড়ে বোঝালেন ঠিক কতটা পথ পাড়ি দিতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ থেকে সাগর সমান অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের মাটিতেও জাদু অব্যাহত রেখেছেন রিশাদ হোসেন।

অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ, বিশ্বকাপ খেলতে না পারার দুঃখ ভুলে থাকার এক উপায়। ফর্মে তুঙ্গে রিশাদ হোসেন। বিশ্বকাপ খেললে নিঃসন্দেহে করতেন বাজিমাত। কিন্তু কি আর করার, বাকিদের মত তিনিও তো পরিস্থিতির স্বীকার! অগত্যা অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপই শেষ ভরসা। অন্তত পারফরমেন্সের ধারায় বিচ্যুতি ঘটানোর উপায় তো নাই।

রিশাদ তাই নিজের কাজটা যথাযথভাবেই করে যেতে চাইলেন। খুব একটা হালকাভাবে নিলেন না দুরন্ত একাদশের তরুণ ব্যাটারদের। ঘূর্ণির মিশ্রণে তিনি এক এক করে তুলে নিলেন তিন-তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছেন রিশাদ। যেই হোবার্ট হারিকেন্সের বেগুনি জার্সিতে তিনি মাতিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মাঠ, সেই একই রঙা জার্সিতে তিনি যেন ভাবলেন পরীক্ষা এখনও চলমান। চার ওভারে তার খরচা মাত্র ২১ রান।

আজিজুল হাকিম তামিম, আরিফুল ইসলাম ও আকবর আলী- এই তিন ব্যাটারকে নিজের স্পিনফাঁদে ফেলেছেন রিশাদ। অভিজ্ঞতার অভাবে রিশাদের বিপক্ষে আকবররা রীতিমত ছিলেন নির্বিকার। কখনো ফ্লাইট, কখনো ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে উইকেট হারিয়েছেন প্রত্যেকে। শুধু বল হাতেই যে রিশাদ ছিলেন চনমনে- বিষয়টি তেমনও নয়।

দারুণ খেলতে থাকা মাহফিজুল ইসলাম রবিনকে রানআউট করেছেন তিনি দারুণ দক্ষতায়। ক্ষিপ্রতার সাথে বল কুড়িয়ে, ব্যাটারদের ফেলে দিয়েছিলেন দ্বিধায়। সেই দ্বিধার সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে রবিনকে ফিরতে হয়েছে প্যাভিলিয়নে। পরিবেশ যেমনই হোক, চাপ যতই থাকুক- রিশাদ এখন এক অবিচল পাহাড়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link