অদ্বিতীয় রিশাদ হোসেন

ম্যাচ সেরা খুঁজতে তাই দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। এক ম্যাচে বল হাতে ইতিহাস, ব্যাট হাতে সাহস - পরিপূর্ণ এক অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। 

ব্রেকথ্রু দরকার? অধিনায়ক এখন জানেন, বল তুলে দিতে হবে রিশাদ হোসেনের হাতে। কারণ, তিনি শুধু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে জানেন না—তিনি পারেন ম্যাচের গল্পটাই নতুন করে লিখে দিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আবারও সেটাই করলেন।

বাংলাদেশ দলের ভাগ্যের রাশ নিজের হাতে তুলে নিয়ে রঙিন পোশাকে ইতিহাস গড়ে ফেললেন তরুণ এই লেগ স্পিনার। রঙিন পোশাকে প্রথম বাংলাদেশি লেগ স্পিনার হিসেবে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। ছয় উইকেট নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন তিনি।

এর আগে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে কোনো লেগ স্পিনার তো দূরের কথা কোনো, কোনো ডান হাতি স্পিনারই আগে পাঁচ উইকেট নেননি বাংলাদেশের হয়ে। সেই অদেখা ও প্রায় অসম্ভব কাজটাই করলেন রিশাদ হোসেন। বাঁ-হাতি স্পিনারদের দুনিয়ায় নজর কাড়লেন এক লেগ স্পিনার।

শুধু নজর কাড়াই নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড একাই ভেঙে দিয়েছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম পাঁচটি উইকেটই তাঁর নেওয়া। ৫১ রানের মাথায় তিনি ভাঙেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি। তারপর শুরু এক অগ্নিঝরা অধ্যায়।

এরপর ৮২ থেকে ৯৫ – এই মাত্র ১৩ রানের মধ্যে নেন আরও চারটি উইকেট। প্রতিটি উইকেট যেন একেকটা আঘাত, যা ভেঙে দেয় ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। আত্মবিশ্বাসী শুরুতে টগবগ করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তাদের মুখ থুবড়ে পড়তে সময় লাগেনি।

আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি তাঁরা। রিশাদের ডানায় ভর করে বোলিংয়ে ‘কাম ব্যাক’ করে বাংলাদেশ। এর আগে বোর্ডে বাংলাদেশ জমা করেছিল ২০৭ রান। সেটাও আবার হয়েছিল রিশাদ হোসেনের সৌজন্যে। ১৩ বলের ছোট্ট এক ইনিংসে তিনি ২৬ টা রান করেন। হাঁকান দুই ছক্কা আর একটি চার। ম্যাচ সেরা খুঁজতে তাই দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। এক ম্যাচে বল হাতে ইতিহাস, ব্যাট হাতে সাহস – পরিপূর্ণ এক অলরাউন্ড পারফরম্যান্স।

Share via
Copy link