সৌম্য সরকারের নদীর মত জীবন

বাংলাদেশ দলে দলে সব সমস্যার সমাধান আসলে সৌম্য সরকার। বিশেষ করে, যখন কাউকে একাদশের বাদ দিয়ে আরেকজনকে জায়গা দিতেই হবে, তখন তাঁর নামটাই আসে সবার আগে।

বাংলাদেশ দলে দলে সব সমস্যার সমাধান আসলে সৌম্য সরকার। বিশেষ করে, যখন কাউকে একাদশের বাদ দিয়ে আরেকজনকে জায়গা দিতেই হবে, তখন তাঁর নামটাই আসে সবার আগে।

তাঁকে চাইলেই বসানো যায়। স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া যায়। তাঁকে নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করাও খুব সহজ। বরাবরই সহজ। কখনও তাঁকে দিয়ে ওপেন করানো হয়, কখনও তিন নম্বরে খেলানো হয়, ফিনিশার রোলেও তাঁকে চেষ্টা করার নজীর আছে। খেলেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবেও।

সবচেয়ে বড় যে অন্যায় সেটা হল – পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি না দেওয়া। যেটা হল পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর প্রথম দিনেই। শেষ দুই ওয়ানডেতে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কঠিন উইকেটে যার রান ১৩৬ রান, তাঁকে চাইলেই বাদ দেওয়া যায়।

সেই ধৃষ্টতাই দেখাল জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট। গেল সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিক্ষে সর্বশেষ দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৯১ আর ৪৫ রান করেন সৌম্য। সিরিজ জুড়ে ছিলেন দলের সেরা ব্যাটার। অথচ, পরের সিরিজেই তিনি দলে নেই।

হ্যাঁ, তাঁর জায়গায় একাদশে থাকা তানজিদ হাসান তামিম সর্বশেষ বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) পারফরম করেছেন। কিন্তু, তাঁকে খেলাতে গিয়ে কেন সৌম্যর পারফরম্যান্সকে অবজ্ঞা করা হবে? করা হবে, কারণ তিনি দলের চিরকালীন গিনিপিগ। চাইলেই তাঁকে খেলানো যায় যেকোনো জায়গায়, চাইলেই বাদ দেওয়া দেওয়া যায়।

এভাবেই একটা নদীর মত বয়ে চলেছে সৌম্য সরকারের ক্যারিয়ার। সেখানে জোয়ার আসে, ভাটা আসে। নদী নিত্য বয়ে চলে। তাঁর কোনো ঠিকানা নেই, যেমন ঠিকানা নেই সৌম্য সরকারের। নদীর মতই তাঁর ক্যারিয়ারের কোনো কূলকিনারা নেই।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link