মাঠে লিওনেল মেসির অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে শুরু করে এখন ইন্টার মায়ামি—সব জায়গাতেই মেসির ছায়াসঙ্গী যেন রদ্রিগো ডি পল। কেউ কেউ তাঁকে মেসির বডিগার্ড বলেও ডাকেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, মাঠের বাইরে নিজের প্রেমিকাকেও তিনি ডাকেন ‘মেসি’ নামে!
শুনতে অবাক লাগলেও এই তথ্য নিজেই প্রকাশ করেছিলেন আর্জেন্টিনার এই মিডফিল্ডার। আর এর পেছনের কারণটাও বেশ আবেগঘন। এবার একটু ঘটনার ভেতরে যাওয়া যাক।
২০২১ সালের শেষ দিকে দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও আর্জেন্টাইন মডেল কামিলা হোমসের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় ডি পলের। প্রায় এক দশকের সম্পর্ক থেকে তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। সেই অধ্যায় শেষ হওয়ার পর ২০২২ সালে, কাতার বিশ্বকাপ শুরুর আগে নতুন প্রেমের খবর আসে। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় গায়িকা ও অভিনেত্রী টিনি স্টোসেল–এর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ডি পল।

বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনার দুরন্ত যাত্রা আর নতুন প্রেম—দুই মিলিয়ে তখন যেন স্বপ্নের সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি। পরে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতার পর প্রকাশ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন ডি পল।
সেখানেই জানান, তিনি স্টোসেলকে আদর করে ‘মেসি’ বলে ডাকেন। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রদ্রিগো বলেছিলেন, ‘আমার কাছে তিনি সবার সেরা। ঠিক যেমন ফুটবলে সেরা লিওনেল মেসি।’
একটি নামের মধ্যেই তাই লুকিয়ে আছে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর তুলনার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি। তাদের সম্পর্ক অবশ্য সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০২২ সালে প্রেম শুরু হলেও ২০২৩ সালে বিচ্ছেদ ঘটে। পরে ২০২৫ সালে আবার কাছাকাছি আসেন দুজন।

তবে স্টোসেল শুধু ‘ফুটবলারের প্রেমিকা’ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নন। আর্জেন্টিনার বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম বড় তারকা তিনি। গান, অভিনয় ও নাচ—তিন ক্ষেত্রেই রয়েছে তার শক্ত অবস্থান।
২০১৬ সালে নিজের ডাকনাম ‘টিনি’ দিয়ে প্রকাশ করেন প্রথম অ্যালবাম। সেটি আর্জেন্টিনায় প্লাটিনাম স্বীকৃতি পায়। এরপর আরও একাধিক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন তিনি। তার বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিও কোটি কোটি দর্শক দেখেছেন। এমনকি ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ড প্লে-এর কনসার্টেও অংশ নিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।
অভিনয়েও কম সফল নন। ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া।











