রোনালদোই গড়ে তুলেছিলেন ক্লোসা নামক নিরব ঘাতক

আট গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট, আর ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে জোড়া গোল এনে দেয় ব্রাজিলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা।ঠিক সে সময়ে জার্মানির জার্সিতে নিরব অভ্যুত্থান ঘটে মিরোস্লাভ ক্লোসার।

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চ। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে করা একটি গোলে মিশে থাকে আবেগ, একটি গোলে মিশে থাকে হাজারো অপ্রাপ্তির গল্প। এক গোল হয়ে ওঠে ইতিহাস, কখনো গড়ে তোলে কিংবদন্তি। ফুটবল বিশ্বকাপের গল্পে এমনই দুই ভিন্ন সময়ের দুই নায়ক- রোনালদো নাজারিও ও মিরোস্লাভ ক্লোসা।

একজন ঝড় তুলে গেছেন, অন্যজন নিঃশব্দে গড়ে তুলেছেন ইতিহাস। তবে শেষ পর্যন্ত দু’জনই জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপের গোলের সর্বোচ্চ শিখরে। অনন্য এক উচ্চতায় বসে আছেন তারা দুইজন। নিজের খেলা শেষ বিশ্বকাপে রোনালদো নাজারিওকে টপকে গেছেন ক্লোসা। তার আগে ছিল ভয়ংকর রোনালদোর একচ্ছত্র আধিপত্য।

তবে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম আসরটা সাইডবেঞ্চে বসেই কাটাতে হয়েছিল ১৭ বছরের রোনালদোকে। তার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে। যুক্তরাষ্ট্রের সেই আসরে মাঠে নামার সুযোগ পাননি ঠিকই, কিন্তু ব্রাজিলের বিশ্বজয়ী স্কোয়াডের অংশ ছিলেন। প্রতিভার সুপ্ত সমুদ্র হয়ে তিনি শান্ত রইলেন।

কিন্তু ঠিক পরের বিশ্বকাপে ১৯৯৮ সালে ঘটে বিস্ফোরণ। রোনালদো ছিলেন ব্রাজিল আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। গতি, ড্রিবল আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে বারবার ভেঙে দিয়েছেন। পুরো আসরে করেছেন চার গোল, ব্রাজিলকে তুলে এনেছেন ফাইনালে। যদিও শেষ হাসি হাসে স্বাগতিকরা।

ইনজুরির দুঃসহ অধ্যায় পেরিয়ে রোনালদো ফিরেছিলেন আরও ভয়ংকর হয়ে। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে তিনি যেন একাই লিখেছিলেন প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য। আট গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট, আর ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে জোড়া গোল এনে দেয় ব্রাজিলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা।

ঠিক সে সময়ে জার্মানির জার্সিতে নিরব অভ্যুত্থান ঘটে মিরোস্লাভ ক্লোসার। প্রথম বিশ্বকাপে ক্লোসা করেন চার খানা গোল। ফাইনালে তুলেছিলেন জার্মানিকে। কিন্তু ওই রোনালদোর কাছে হারতে হয়েছিল তাকে। সেবারই হয়ত পণ করেছিলেন রোনালদোকে একদিন না একদিন টপকে যাবেন।

সেই কথা তিনি রেখেছিলেন। ২০১৪ সালে এসে টপকে যান রোনালদোকে। এর আগে অবশ্য ২০০৬ সালে ১৫ গোলের সেই মাইলফলক সৃষ্টি করেছিলেন রোনালদো নাজারিও। কিন্তু সেই আসরেই নিজের লক্ষ্যটা স্পষ্ট করেছিলেন ক্লোসা। গোল্ডেন বুট জিতে নেন পাঁচ খানা গোল করে।

রোনালদো যখন ফুরিয়ে গেলেন তখন অবশ্য ক্লোসা বড় তারকা। পরের দু’টো বিশ্বকাপে তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। চুপচাপ কোন প্রকার বাড়তি আলোড়ন সৃষ্টি না করেই তিনি বনে গেলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। রোনালদো ছিলেন বলেই হয়ত তাকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রেরণা খুঁজে পেয়েছিলেন ক্লোসা। যদিও দুইজন ছিলেন দুইমেরুর খেলোয়াড়।

রোনালদো ছিলেন বিস্ফোরণ-গতি, দক্ষতা আর সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য মিশেল। অন্যদিকে ক্লোসা ছিলেন নিখুঁত পজিশনিং আর ধারাবাহিকতার প্রতীক। একজনের ক্যারিয়ার থমকে গেছে ইনজুরিতে, অন্যজন ধাপে ধাপে জমিয়েছেন গোলের হিসাব। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দু’জনই রেখে গেছেন অমর ছাপ। রোনালদো রেকর্ড গড়েছিলেন, আর ক্লোসা সেই রেকর্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link