রোনালদো-নেইমার দুই রুপকথার কেন্দ্র এক

সাত বছরের দূরত্বে ফুটবল বিশ্ব পেয়েছিল দুই ভিন্ন গল্পের স্বাদ। ১৯৮৫ সালে আগমন রোনালদোর, ১৯৯২ সালটা বিশেষ করেছেন নেইমার।

এক আজন্ম আক্ষেপ, সাথে না পাওয়ার বিষাদ। দুই ভিন্ন পথ এসে মিলেছে ৫ ফেব্রুয়ারির দোড়গোড়ায়। সম্ভাবনার মশাল হাতে ক্ষণিকের আলো হয়ে ওঠা নেইমার আফসোসের বিষাদসিন্ধু সৃষ্টি করেছেন সময়ের স্রোতে। আর সংগ্রামের প্রতিমূর্তি হয়ে ওঠা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট দখলের পরিশ্রম।

সাত বছরের দূরত্বে ফুটবল বিশ্ব পেয়েছিল দুই ভিন্ন গল্পের স্বাদ। ১৯৮৫ সালে আগমন রোনালদোর, ১৯৯২ সালটা বিশেষ করেছেন নেইমার। প্রতিভার বিচ্ছুরিত আলোক রশ্মি নেইমারকে ঘিরে তৈরি করেছিল এক সম্মোহনের আনন্দ। ক্রিশ্চিয়ানোর অদম্য মানসিকতায় উদ্বুদ্ধ একটা গোটা প্রজন্ম।

ক্রিশ্চিয়ানোর লড়াইটা এখন ইতিহাসের একমাত্র হওয়ার। সবার আগে হাজার গোল ছোঁয়ার। অন্যদিকে নেইমারের লড়াই জুড়ে রয়েছে একটুখানি ফুটবল খেলতে পারার দীর্ঘশ্বাস। চোটের পর চোট, নেইমারের প্রতিভাকে বানিয়েছে দুর্বল। সেই চোটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, সময়ের সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ক্রিশ্চিয়ানো।

দুই ভিন্ন মেরুর দুই ফুটবলারের জন্মদিনে গোটা দুনিয়া জুড়ে আনন্দের হিল্লোল পড়ে যাওয়ার কথা। তবে ওই যে আক্ষেপ আর অপ্রাপ্তির অধ্যায়গুলোর বিষাদের ধূসরতা কোথাও একটা ইতস্তত দলা পাকিয়ে আটকে আছে। নেইমারকে ঘিরেই সম্ভবত সেই আফসোসের দীর্ঘশ্বাস প্রতিবার বায়ুমণ্ডলের তাপ বাড়িয়েছে।

অগাধ প্রতিভা, নান্দনিকতা, বল পায়ে আনন্দদাতা- ছেলেটা স্রেফ আরেকটি অকাল সম্ভাবনার মৃত্যু হয়ে টিকে আছে ফুটবলের বিস্তৃত মানচিত্রে। এই তো সেদিনও নিজস্ব ম্যাজিকে তিনি তার ছেলেবেলার ক্লাব সান্তোসকে টেনে তুলেছেন ধ্বংসস্তুপের মাঝে থেকে। কিন্তু নিজেকে আর টেনে তুলতে পারলেন কই!

অন্যদিকে সমালোচনের তীব্র ঝড়ে প্রায়শই এলোমেলো হয়ে যান রোনালদো। কিন্তু ওই যে অদম্য মানসিকতায় ভর দিয়ে তিনি উঠে দাঁড়ান, দৌড়ে বেড়ান নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্যের দিকে। বিশ্ব ফুটবলের এক বর্ণালি ভূবনে ক্রিশ্চিয়ানো নামক এক দানবের প্রতিবিম্ব ফেলে রেখে যেতে চান। না পারলেও সমস্যা নেই, নেইমার, রোনালদো- দু’জনই তো এক একটি ইতিহাস।

 

Share via
Copy link