এই চারটা বলই আসলে রুতুরাজ গায়কড়ের ক্যারিয়ার। বিরাট কোহলি তো প্রায় গায়কড়কে মাঠেই ধরাশায়ী করে দিচ্ছিলেন! উইকেট ছেড়ে এগিয়ে এসে দারুণ ফুটওয়ার্কে নিচের কবজিটা কাজে লাগিয়ে হুইপ করলেন নন-স্ট্রাইকারের ঠিক পাশ দিয়ে। গায়কোয়াড় নিচু হয়ে বাঁচার চেষ্টা করলেন, আর বলটাও অল্পের জন্য তাকে এড়িয়ে ছুটে গিয়ে সোজা বাউন্ডারির দিকে গুলি হয়ে ছুটল।
পরের বলে ফুলটসে কোহলি নিলেন সিঙ্গেল। এক বল আগের প্রাণভয় জয় করেই পরের দুই বলে রুতুরাজ হাকালেন দু’টি বাউন্ডারি। ৯২ থেকে এক লাফে চলে গেলেন সেঞ্চুরিতে। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ব্যস, এটাই রুতুরাজ। প্রতিটা মুহূর্ত ভয়কে জয় করা শিখে নিতে হয় তাঁর।
তাঁর ভেতরে কোনো চাকচিক্য নেই, কোনো এক্স ফ্যাক্টর নেই। তাঁর বিরাট কোনো ফ্যান ফলোয়ার নেই। তাঁর আগমণে গ্যালারি থেকে উত্তাল জনতার ঢেঁউ ওঠে না।
তবে, তিনি পারফরম করতে জানেন। তাঁর মধ্যে ঝা-চকচকে কোনো ব্যাপার না থাকলেও তিনি প্রয়োজনের সময় স্ট্রোক খেলতে জানেন, নিজের মঞ্চ পেলে তিনি নিজের জাত চেনাতে জানেন। যেমন চেনালেন রায়পুরে। অন্য পাশে যখন বিরাট কোহলি খেলছেন, পুরো গ্যালারি চিৎকার করছে ‘চিকু’র জন্য তখনই আপন আলোতে জ্বলে উঠলেন রুতুরাজ।

কপিবুক ক্রিকেট খেললেন, পাওয়ার হিটিং করলেন, কখনও রান রেটের সাথে পাল্লা দিলেন। ঘরের মাঠের পূর্ণ সুবিধা আদায় করে নিলেন। ৫২ বলে ছুঁয়েছিলেন ফিফটি, এরপর ইনিংসের গতি বদলে মাত্র ৭৭ বলেই পৌঁছে গেলেন তিন অঙ্কের গৌরবে। একেবারে মার্জিত, পরিপাটি এক ইনিংস। কোহলি দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন তাকে। গায়কোয়াড় হেলমেট খুলে ব্যাট তুললেন গ্যালারির অভিবাদন নিতে।
চেন্নাই সুপার কিংস তাঁকে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখেছিল—টপ অর্ডারে স্থায়ী ওপেনার, প্রয়োজন হলে আক্রমণ করতে পারবেন। চেন্নাই আজও তাঁকে সেটাই ভাবে, ভাবে একদিন মহেন্দ্র সিং ধোনির রেখে যাওয়া সাম্রাজ্য সামলাবেন তিনি। সেই কাজটা তিনি গত আসরেও করেছেন।
তবে, ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে গল্পটা ভিন্ন। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করেছেন, প্রায় ১৪৫ গড়ে রান করেছেন। কেবল জায়গাটা চিরস্থায়ী করতে পারেননি। কারণ, তাঁর মধ্যে ওই যে ওই বাকিদের চেয়ে আলাদা করার ব্যাপারটা নেই।
রুতুরাজ গায়কড় জানেন, অবারিত সাফল্য পেলেও তিনি ভারতের মিডল অর্ডারে সেটেল হতে পারবেন না। চার নম্বর পজিশনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়ে গেছে শ্রেয়াস আইয়ারের, স্রেফ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নেই বলেই সুযোগ মিলেছে রুতুরাজের। আর সেই সুযোগ পেয়েই রাজা বনে গেলেন গায়কড়।

পেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তিনি পেশাদার। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রচণ্ড চাপ আর তুমুল প্রতিযোগীতা তিনি ভালই বোঝেন, এর মধ্যেই ব্যাটের ঝলকে আনন্দ খুঁজে নেন, ভারতের জয়ের সারথী হওয়ার সুযোগ তো তাঁর রোজ রোজ মেলে না।










