সামিত দ্রাবিড়ের স্বপ্নীল ব্যাটিং, হবেন কি রাহুল দ্রাবিড় ২.০?

ম্যাচের স্কোরকার্ডের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে আসে সামিতের ব্যাটিং টেকনিক। স্কয়ার কাট, কভার ড্রাইভ, নিয়ন্ত্রিত পুল শট আর নিখুঁত ফুটওয়ার্ক যেন ক্রিকেটমোদীদের চোখে তাঁকে রাহুল দ্রাবিড়ের ২.০ ভার্শনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলে।

প্রথম কয়েকটি বল দেখেই গ্যালারিতে বসা অনেকের মনে যেন সময়টা হঠাৎ উল্টো দিকে হাঁটতে শুরু করল। সোজা ভঙ্গি, উঁচু কনুই, নিখুঁত ব্যাকলিফট—ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ ব্যাটার সামিত দ্রাবিড়কে দেখে সামাজিক মাধ্যমে একটাই প্রশ্ন ঘুরতে লাগল, ‘দ্য ওয়াল’ কি আবার ফিরে এলেন?

মহারাজা ট্রফি টি-টোয়েন্টিতে কল্যাণী বেঙ্গালুরু ব্লাস্টার্সের হয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন ভারতীয় কিংবদন্তি রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলে সামিত দ্রাবিড়। ইনিংসের মাত্র আট বলেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। ঠিক সেই সময়ই কোনো তাড়াহুড়া না করে, বাবার মতোই ধৈর্য আর নিয়ন্ত্রণে খেলতে শুরু করেন তিনি।

মাত্র ২৩ বলে ৩২ রান। ইনিংসটি খুব বড় ছিল না, কিন্তু ছিল ভীষণ পরিণত। ছয়টি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারিতে সাজানো এই ইনিংসই ব্লাস্টার্সের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।

 

পরে রোহান পাতিলের ৬৪ ও প্রবীণ দুবের ৫১ রানের ইনিংসে ভর করে বেঙ্গালুরু ব্লাস্টার্স তোলে ২০৩/৭। জবাবে মানবন্ত কুমারের ঝোড়ো ৬০ রান সত্ত্বেও হুবলি টাইগার্স থামে জয়ের মাত্র দুই রান দূরে।

তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় ছিল সামিতের ব্যাটিং। স্কয়ার কাট, কভার ড্রাইভ, নিয়ন্ত্রিত পুল শট, আর নিখুঁত ফুটওয়ার্ক—প্রতিটি শটেই যেন ভেসে উঠছিল রাহুল দ্রাবিড়ের সেই পরিচিত ছাপ। অনেকের কাছেই মনে হয়েছে, যেন ‘দ্য ওয়াল’-এরই নতুন সংস্করণকে দেখছে ক্রিকেট বিশ্ব।

তবে এখানেই সামিতের আলাদা পরিচয়। বাবার মতো শুধুই ব্যাটার নন, তিনি নিজেকে গড়ে তুলছেন একজন পেস-বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে।

এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ২০২৪ সালে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পেয়েছিলেন সামিত। কিন্তু হাঁটুর চোট তাঁর সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকটা তখন আর হয়নি।

তবে থেমে থাকেননি তিনি। চোট কাটিয়ে আবারও ফিরেছেন মাঠে। ব্যাট আর বল—দুটো হাতিয়ার নিয়েই ধীরে ধীরে গড়ে তুলছেন নিজের পরিচয়।

আর দ্রাবিড় পরিবারের গল্পও এখানেই শেষ নয়। রাহুল দ্রাবিড়ের ছোট ছেলে অনভয় দ্রাবিড় ইতোমধ্যেই ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি একজন উইকেটকিপার-ব্যাটার।

একসময় ভারতীয় ক্রিকেটকে নিরাপত্তার দেয়াল উপহার দিয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। এখন সময়ই বলে দেবে, তাঁর দুই ছেলে কি সেই গল্পেরই নতুন অধ্যায় লিখতে পারেন, নাকি তৈরি করবেন সম্পূর্ণ নিজেদের আলাদা পরিচয়।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link