সাঞ্জু স্যামসন বনে গেছেন বলির পাঠা। এশিয়া কাপে ভারতের যাত্রাটা তারকায় ঠাসা দল নিয়ে। তবে বড় নামগুলোকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে, পারফর্মারদের কিছুটা অবহেলা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। টপ অর্ডারে ফর্মে থাকা স্যামসনকে মিডল অর্ডারে সরিয়ে নেওয়াটা তারই প্রমাণ। সিদ্ধান্তটা বিপজ্জনক হবে না তো ভারতের জন্য!
নিজেদের প্রথম ম্যাচে আরব আমিরাতকে একেবারে গুড়িয়ে দিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। তবে এসব ছাপিয়ে এখন আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে সাঞ্জু স্যামসনকে ওপেনার থেকে মিডল অর্ডারে নামানোর সিদ্ধান্তটা।
জেনুইন স্ট্রোক প্লের জন্য ওপেনিং পজিশনে স্যামসন বেশ নির্ভরযোগ্য নাম। পরিসংখ্যানও বলছে তেমনটাই, এখন পর্যন্ত ওপেনিং পজিশনে নেমে করেছেন ৫২২ রান, নামের পাশে তিন শতক এবং গড়টা ৩২.৬৩। সেই সাথে ১৭৮.৭৭ স্ট্রাইক রেটটাও নজর কাড়া.

টপ অর্ডারে এমন সাফল্যের পরেও, তাঁকে প্রথম ম্যাচে বানানো হয়েছে মিডল অর্ডার ব্যাটার। মূলত অভিষেক শর্মার সাথে শুভমান গিলকে জায়গা দিতে এমন সিদ্ধান্ত। তিন নম্বরে সুরিয়াকুমার যাদব নামায় সেখানেও রাখার উপায় ছিল না।
এখন পর্যন্ত সব ধরণের টি-টোয়েন্টিতে টপ অর্ডারে ১৫২ ইনিংস ব্যাট করেছেন স্যামসন। ৩৪.৮০ গড় আর ১৪৫ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ৪৭৩৩। যেখানে বাউন্ডারি থেকে রান এসেছে ৬৩.২১ শতাংশ।
অন্যদিকে মিডল অর্ডারে ৬৭ ইনিংস ব্যাট করে রান করেছেন ১১৩৭। ব্যাটিং গড় মাত্র ১৯.২৭, স্ট্রাইক রেটটাও নেমে এসেছে প্রায় ১২৫ এ। শুধু তাই নয়, এই পজিশনে বাউন্ডারি থেকে রান আদায়ের হার ৫৪.১৭ শতাংশ। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে মিডল অর্ডারে সাঞ্জু স্যামসন মোটেও কার্যকরী নাম নন। টপ অর্ডারে বাউন্ডারি বের করা তাঁর জন্য সহজ, যেটা মিডল ওভারগুলোতে বেশ কঠিন।

অভিজ্ঞতা এবং পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে স্যামসনকে একাদশের বাইরে রাখার কোনো কারণ অবশ্য নেই। তবে এশিয়া কাপের মতো মঞ্চে তাঁর জন্য মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করাটা বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে টপ অর্ডার যদি কোনো কারণে পারফর্ম করতে না পারে, সেক্ষেত্রে চাপের মুখে স্যামসনের এই পজিশনে হাল ধরাটা কঠিনই হবে। যা ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণও বটে।
তাই যদি তাকে টপ অর্ডারে সুযোগ না দেওয়া যায়, তাহলে বিকল্প হিসেবে জিতেশ শর্মাকে একাদশে জায়গা দেওয়াটা বরং বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নইলে এই পজিশনে বড় দলের বিপক্ষে ভারতের খেসারত দিতে হতে পারে!











