সাকলাইনদের আগলে রাখতে হবে রিশাদের মত করে

এই সাকলাইনদের পরিচর্যা করা প্রয়োজন, তাদেরকে সাহস জোগানো প্রয়োজন। ঠিক যেমন করে সবাই মিলে ভরসা রেখেছিল রিশাদ হোসেনের উপর।

দিনের সেরা বোলারকে মিডউইকেট অঞ্চল দিয়ে ছক্কা হাঁকালেন। তার আগে পাকিস্তানি স্পিনার মির্জা তাহির বেগের বলে নো লুক শটে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। যে উইকেটে তাবড় তাবড় ব্যাটাররা খাবি খেয়ে গেছেন সেই উইকেটে দাঁড়িয়ে আবদুল গাফফার সাকলাইন একটা স্বল্প সময়ের ঝড় তুলে গেলেন।

স্রেফ ১৫ বলের ইনিংসটিতে তিনি ব্যাটিং করেছেন ২১৩.৩৩ স্ট্রাইকরেটে। রীতিমত অবাক চোখে তাকিয়ে থাকার উপক্রম। লিটন দাস, স্যাম বিলিংস, তানজিদ হাসান তামিম, শাহিবজাদা ফারহানদের মত ব্যাটাররা যে পিচে দাঁড়িয়ে নিজের উইকেট বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াশ করে গেছেন, সেই উইকেটে সাকলাইনের ব্যাটিং দক্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়।

মির্জা তাহির বেগের ওভারে তো পরপর দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকান তিনি। তাহিরের সাথে তার দ্বৈত লড়াইটা জমেছিল বেশ। তারপর তিনি চড়াও হলেন শরিফুল ইসলামের উপর। এদিন নিজের ব্যক্তিগত তিন ওভারে স্রেফ তিন রানই খরচা করেছেন শরিফুল। সেই বোলারের সামনেও নির্ভীক ভঙ্গিমায় ব্যাট চালিয়েছেন সাকলাইন। আপন ঢঙে টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকান, একটি ছক্কা একটি চার।

 

ইনিংসের ১৯ তম ওভারে শরিফুল হজম করে গেলেন, ১৩টি রান। অন্যদিকে তিন ছক্কা দুই চারে সাকলাইনের ব্যাট থেকে এসেছে ৩২টি মহাগুরুত্বপূর্ণ রান। লো স্কোরিং উইকেটে এই রানটুকুই রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের জয়ের জন্য হয়ে যেতে পারে যথেষ্ট। দলের পক্ষে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করলেন তিনি।

সাকলাইনের বোলিংয়ের প্রশংসা ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে গেছে। কিন্তু এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে, ব্যাট হাতে নিজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ তিনি সেই অর্থে পাননি। কিন্তু তিনি সুযোগ পেয়েই বোঝালেন- একজন বোলিং অলরাউন্ডার ঠিক কেন দরকার। বিশেষ করে পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

সাকলাইন এখনই বাংলাদেশের পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাব মিটিয়ে ফেলবেন, বিষয়টি তেমন নয়। তবে এই সাকলাইনদের পরিচর্যা করা প্রয়োজন, তাদেরকে সাহস জোগানো প্রয়োজন। ঠিক যেমন করে সবাই মিলে ভরসা রেখেছিল রিশাদ হোসেনের উপর।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link