পাকিস্তান ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক আবার বদলে গেল। দায়িত্ব পেলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। নেতৃত্বের দৌঁড় থেকে আবারও ছিটকে ফেললেন বাবর আজমকে।
বাঁহাতি পেসার অবিলম্বে দায়িত্ব নিচ্ছেন, আগামী ৪ থেকে ৮ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ দিয়েই শুরু হবে তাঁর অধিনায়কত্ব অধ্যায়। তিনি জায়গা নিচ্ছেন মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্থানে, যিনি বাবর আজমের পর গত বছর থেকেই ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে ছিলেন।
এটাই কিন্তু শাহীনের প্রথম নেতৃত্ব নয়। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে তাঁকে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হয়েছিল। তবে নিউজিল্যান্ড সফরে মাত্র একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজেই দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন তিনি। সেই সিরিজে পাকিস্তান পাঁচ ম্যাচের মধ্যে জেতে কেবল শেষটি। এরপর বাবর আজম ফের অধিনায়ক হন, পরে সেই দায়িত্ব যায় সালমান আলী আঘার হাতে।

রিজওয়ানের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন ছিল গত ক’দিন ধরেই। শেষ ১০ ওয়ানডের মধ্যে পাকিস্তানের জয় এসেছে মাত্র দুইটিতে। পারফরম্যান্সে টালমাটাল সময় পার করছে দল। ফলে প্রশ্ন উঠেছে রিজওয়ানের নেতৃত্ব নিয়ে।
২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জিতে দারুণ সূচনা করলেও, ২০২৫ সালে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি তিনি। চলতি বছর তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তান ১১টি একদিনের ম্যাচ খেলেছে, জিতেছে মাত্র দুইটিতে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও দল ছিল সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থতার পাশাপাশি রিজওয়ানের ব্যাটও এবার নীরব। ফলে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নতুন নেতৃত্বে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিকল্পদের মধ্যে সেরা পছন্দ অবশ্য হতে পারতেন খোদ বাবর আজম। আদতে, রিজওয়ানের বিকল্প হিসেবে পিসিবির বিবেচনায় ছিলেন তিনজন— বাবর আজম, সালমান আলী আঘা এবং শাহীন শাহ আফ্রিদি।
অভিজ্ঞতার বিচারে বাবর ছিলেন এগিয়ে, ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তাঁর অধিনায়কত্বে জয়ের হার ছিল ৬০ শতাংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটে ফর্মহীনতা ও নেতৃত্ব নিয়ে দ্বিধায় ছিল বোর্ড। এখানেই এগিয়ে গেছেন শাহীন আফ্রিদি।
অবশেষে সব আলোচনা পেরিয়ে নির্বাচকদের আস্থা পেয়েছেন শাহীন আফ্রিদি। তরুণ এই পেসারই এখন পাকিস্তানের ওয়ানডে দলের নতুন কাণ্ডারি। তাঁর নেতৃত্বে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান ক্রিকেট।

Share via:











