ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু ইনিংস রয়েছে যা কেবল রেকর্ড বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং রূপকথা রূপে বেঁচে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ১৯৯৬ সালের সেই দিনটি ছিল ঠিক তেমনই। যেদিন নেট রানরেটের জটিল এক অংকের চাপে পড়ে জন্ম নিয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম বিধ্বংসী এক মহাকাব্য। যে কাব্যের রচয়িতা ছিলেন ১৬ বছরের এক কিশোর – শহীদ আফ্রিদি।
সেই ম্যাচে পাকিস্তানের সামনে প্রতিপক্ষ ছিল তৎকালীন দাপুটে শ্রীলঙ্কা। তবে লড়াইটা কেবল জয়ের ছিল না, ছিল ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার । সমীকরণটাও ছিল বেশ কঠিন। কেবল জিতলেই হবে না, ফাইনালে যেতে হলে অন্তত ৮২ রানের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটি ছিল আফ্রিদির অভিষেক টুর্নামেন্ট। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে যখন রানরেট বাড়ানোর প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়, তখন টিম ম্যানেজমেন্ট বাজি ধরল আফ্রিদির ওপর। তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো তিন নম্বরে। এরপর যা ঘটল, তা কেবল ক্রিকেট বিধাতাই হয়তো আগে থেকে লিখে রেখেছিলেন।

ব্যাট হাতে নেমেই লঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমতো শাসন শুরু করেন আফ্রিদি। একের পর এক বাউন্ডারিতে বল মাঠ ছাড়া করেন। সেই সময়ের লঙ্কান স্পিন বিষকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে মাত্র ৩৭ বলে তিনি পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। ক্রিকেট বিশ্ব দেখে এক নতুন তারার জন্ম, যে কিশোরের ব্যাটে ছিল না কোনো ভয়, ছিল কেবল ধ্বংসাত্মক আনন্দ। আফ্রিদির সেই ঝড়ে পাকিস্তান বোর্ডে তোলে ৩৭১ রানের বিশাল পুঁজি।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা লড়াকু মানসিকতা দেখালেও থামতে হয় ২৮৯ রানে। ফলাফল? ঠিক ৮২ রানের জয়। যে ব্যবধানটি সেমিফাইনালের পথে টিকে থাকার জন্য একদম অপরিহার্য ছিল, কাকতালীয়ভাবে পাকিস্তান জিতেছিল ঠিক সেই ব্যবধানেই।
নেট রানরেটের সেই গাণিতিক হিসেবে মিলতে গিয়েই ক্রিকেট জগত পেয়েছিল ‘বুম বুম’ আফ্রিদিকে। আজ কয়েক দশক পার হয়ে গেলেও, সেই ৩৭ বলের ইনিংসটি আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে উন্মাদনা জাগায়।











