শাই হোপ বাঁচিয়ে রেখেছেন ক্যারিবান ‘হোপ’

'ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট'- শাই হোপ সেই প্রবাদের উদাহরণ। আবার তাকে আপনি বলতে পারেন 'দ্য লোন ওয়ারিয়ার'।

‘ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’- শাই হোপ সেই প্রবাদের উদাহরণ। আবার তাকে আপনি বলতে পারেন ‘দ্য লোন ওয়ারিয়ার’। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনবদ্য এক সেঞ্চুরি হাকিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। ১০৯ রানে অপরাজিত থেকেছেন তিনি। দলের একমাত্র ঢাল হয়ে টিকে ছিলেন একেবারে শেষ অবধি। তবে সেজন্য তিনি মোটেও হননি বিচলিত, শেকলে বন্দী করে রাখেননি নিজের আক্রমণাত্মক সত্ত্বাকে।

স্রেফ ৬৯ বলে তিনি ১০৯ রানের ইনিংস খেলেছেন স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তার খেলা প্রায় ১৫৮ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটির কল্যাণেই ২৪৭ রান অবধি পৌঁছেছে ক্যারিবিয়ানদের সংগ্রহ। বৃষ্টি বিঘ্নিত ৩৪ ওভারের ম্যাচে এই রান জয় তুলে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সে রাস্তাটুকু অন্তত তৈরি করে দিয়েছেন শাই হোপ।

অবশ্য এই কাজটা তিনি ভীষণ ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছেন চলতি বছর জুড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সুদিন গত হয়েছে বেশ লম্বা সময় হল। দলের দায়িত্ব নিতে খেলোয়াড়দের অনীহা। লঙ্গার ফরম্যাট যেন খেলোয়াড়দের বিতৃষ্ণার জায়গা। সেসবের মাঝে দাঁড়িয়েও শাই হোপ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

জাত দলনেতা হিসেবেই তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ব্যাট হাতে রান তুলে তিনি রয়েছেন সবার উপরে। সতীর্থদের জন্য তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন পথপ্রদর্শক। চলতি বছরে ওয়ানডে অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫৪ রান করেছেন তিনি। নিদেনপক্ষে দশ ম্যাচ খেলা অধিনায়কদের মধ্যে তার ব্যাটিং গড়ও রয়েছে সবার উপরে। ৫৯.৪৫ গড়ে রান এসেছে শাই হোপের ব্যাট থেকে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ সেঞ্চুরিসহ দুইটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন শাই হোপ। এছাড়াও চারটি হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি ব্যাট হাতে। এমনকি ওয়ানডেতে চলতি বছরে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে সর্বাধিক রানের রেকর্ডটাও রয়েছে শাই হোপের দখলে।

অর্থাৎ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রধান শর্ত তিনি পূরণ করছেন নিজে পারফরম করে। কিন্তু গোটা দল সেই পারফরমেন্সের প্রতি সুবিচার করতে পারছে না বলেই হয়ত এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেহাল দশা চলমান।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link