টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার সেদিন হয়েছিল ম্লান

এক মহাযুদ্ধ শেষে তিনি মাঠ ছেড়েছিলেন পরাজিত সৈনিকের বেশে। সেদিনের সেই স্মৃতি কি সাকিবের এখনও মনে পড়ে? 

সাকিব আল হাসানের অর্জনের খেরো খাতা প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ। ঠিক তেমনি তার ট্র্যাজিডির খাতা একেবারেই নয় শূন্য। সেমিফাইনাল ম্যাচে একাই লড়েছিলেন সাকিব। কিন্তু স্রেফ ৯ রানের একটা আক্ষেপ নিয়ে তাকে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল। টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কারটাও তাই ম্লান হয়ে যায়।

একেবারে শুরুর দিককার কথা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের আয়োজন তখন কেবলই অঙ্কুর ফুঁটে বেড়িয়ে আসা চাড়াগাছ। ব্যাটে-বলে পুরো মৌসুমটাই মাতিয়ে রাখলেন সাকিব আল হাসান। মাগুরার সাকিব গায়ে চাপিয়েছিলেন খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের জার্সি। নীলাভ জার্সিতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সত্যিকারের রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

তারকায় ঠাসা দলটায় তিনিই বনে গিয়েছিলেন সবচেয়ে বড় তারকা। গোটা মৌসুম জুড়েই ব্যাটে রানের থই থই জলরাশি। বল হাতে তিনি ছিলেন সর্বগ্রাসী। খুলনার পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮০ রান এলো তার ব্যাট থেকে, ১৪০ স্ট্রাইকরেটে চলেছিল তার ব্যাট। টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করলেন ১৫টা।

দারুণ সব দিনগুলোর জন্যই তার হাতে উঠেছিল টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার। কিন্তু তাতে কি আর মনের গহীনে চলা ঝড়ের প্রকোপ দমানো যায়। প্রথম বিপিএলের প্রথম সেমিফাইনাল। সেবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের মুখোমুখি খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস। ইমরান নাজিরের ব্যাটিং তোপ, আজহার মেহমুদ, মোহাম্মদ আশরাফুলদের যুতসই ব্যাটিংয়ে গ্ল্যাডিয়েটর্স বোর্ড রান ১৯১।

বল হাতে সাকিব একটা উইকেট পেলেও ছিলেন ভীষণ খরুচে। ৪৫ রান বিলিয়েছেন নিজের চার ওভারে। কিন্তু ব্যাট হাতে দৃঢ় প্রত্যয়ী সাকিব লড়ে গেছেন একেবারে শেষ অবধি। তিনি বাদে সেদিন কেবল তিনজনই পেরেছিলেন দুই অঙ্কের ফিগার ছুঁতে। বাকিদের ব্যর্থতার দিনে, তরুণ সাকিব ইস্পাত দৃঢ়।

৮৬টি রান তিনি জড়ো করলেন দলের জন্য। ২০৯ রানের একটা প্রলয়ংকারী ধ্বংসযজ্ঞ। নয় খানা চার, চার খানা ছক্কা। সাকিবের ব্যাট যেন পরিণত হয় এক বিস্ফোরিত দাবানলে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩১ রান। সাকিব সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি শেষ দেখে ছাড়বেন। অভিজ্ঞ আজহার মেহমুদ তখন বোলিং প্রান্তে।

তাকে অপ্রস্তুত করে দিয়ে চারের মার দিয়ে শুরু। সেই ওভারে সাকিব হাঁকালেন দু’টি চার ও দু’টি ছক্কা। একটা ওয়াইড সহ সর্বসাকুল্যে এলো ২১ রান। জয়ের ফারাক দশ রানের। পরাজয়ের ব্যবধান ৯। লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া সাকিব সেদিন মাঠ ছেড়েছিলেন সুনামিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া হৃদয় নিয়ে। এক মহাযুদ্ধ শেষে তিনি মাঠ ছেড়েছিলেন পরাজিত সৈনিকের বেশে। সেদিনের সেই স্মৃতি কি সাকিবের এখনও মনে পড়ে?

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link