কিংবদন্তিদেরও ঘরে ফিরতে মনে চায়, ঠিক যেমনটি চেয়েছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি অবশ্য বাংলার বুকে ফিরতে পেরেছিলেন। কিন্তু সাকিব আল হাসান কি পারবেন? এই প্রশ্নের উত্তর হয়ত দেওয়া কঠিন। তবে সাকিবের এখনও দলে জায়গা আছে? এমন প্রশ্নের উত্তর বরং দেওয়া সহজ। সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া যায়- ‘আছে’।
সম্প্রতি চারিদিকে চাওড় হয়েছে সাকিবের মনোবাসনা। তিনি বাংলাদেশের জার্সিতে তিন ফরম্যাটেই সিরিজ খেলে ক্রিকেটকে বিদায় বলতে চান। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি তিনি। আর তাতেই হতাশ জনপদে যেন নতুন আশার সঞ্চার ঘটেছে। সাকিবকে লাল-সবুজের জার্সিতে দেখার নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে বিপুল সংখ্যক সমর্থক।
তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কি-না, সেটা অবশ্য বলা মুশকিল। কিন্তু ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে এখনও হয়ত তার অভাব অপূরণীয়। একজন সাকিব আল হাসান শতাব্দীতে একবারই জন্মায়। তাইতো এখনও অবধি সাকিবের বিকল্প খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ দল। এখনও একাদশ সাঁজাতে গিয়ে কোথাও না কোথাও ঘাটতি থেকে যায়।

অথচ এক সাকিব আল হাসান দলে থাকা মানেই ছিল একের ভিতর তিন কিংবা চার। ফিল্ডার হিসেবে সাকিব মন্দ নন, আর নেতৃত্ব গুণে সাকিবের আবহের বলয় সতীর্থদের ভরসার সঞ্চার ঘটায়। ব্যাটে-বলে সাকিব কেমন, সেটা তো পরিসংখ্যান, ইতিহাস আর রেকর্ড বইয়ের পাতা ওল্টালেই পরিষ্কার হয়ে যায়।
এখন হয়ত কার্যকারিতা হ্রাস পেয়েছে। তিনি হয়ত প্রত্যাশার সর্বোচ্চটুকু ডেলিভার এখন আর করতে পারবেন না। কিন্তু ঝড়ের দিনে বট গাছের মত করে তিনি আশ্রয়ের ছায়াতল হতে পারবেন অনায়াসে। ক্যারিশম্যাটিক চরিত্র, মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চয়ই হারিয়ে ফেলেননি। আর অভিজ্ঞতার যে ঝুলি নিয়ে তিনি যুক্ত হবেন দলে- সে কথা না বললেও চলছে।
অতএব এখনও দলের ভেতরে সাকিবের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি। এখনও চাইলেই তাকে দলে সুযোগ দেওয়া যায়, এমনকি একাদশেও তাকে জায়গা করে দেওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। তবে ঘুরে-ফিরে সেই অক্রিকেটীয় প্রশ্নটাই সামনে চলে আসবে, সাকিব কি ফিরতে পারবেন দেশে?












