আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা শুরুর আগেই বাংলাদেশের সামনে ছিল একটা কঠিন অঙ্ক। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে যেতে হলে জিততে হতো ৪১ রানের ব্যবধানে। টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে পথটা কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে সেই সমীকরণের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। শারজার পিচ ব্যাটাররা পড়তেই পারছিলেন না, একে একে এলেন আর গেলেন।
ইয়ামিন আহমাদজাই আর ওমরজাই মিলে ২৮ রানের মধ্যে চার উইকেট তুলে নিলেন। সেখান থেকে সাইফ হাসান আর ইমন ধীরে ধীরে ৯৩ রানের জুটি গড়লেন। বল বুঝে, একটা-দুটো রান নিয়ে এগোচ্ছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল লড়াই করার মত একটা সংগ্রহের দিকেই যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু ৪১ রানে সাইফ নবীর বলে ফিরতেই সবকিছু ভেঙে পড়ল। এরপর যাঁরা এলেন, তাঁরা যেন কেবল হাজিরা দিতেই এলেন। ইমন একা কিছুক্ষণ লড়লেন, ৯৬ বলে ৭০ রান করলেন, রশিদ খানের ঘূর্ণিতে তিনি ফিরতেই বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ১৬০ রানে।
৪১ রানের জয়ের সমীকরণ তখন অনেক দূরের পথ। ১৬০ রান বাঁচাতে হলে বোলারদের অসাধারণ কিছু করতে হতো। শুরুতে তাসকিন আহমেদ দুই উইকেট নিয়ে একটু আশা জাগালেন, গুরবাজ আর অটলকে ফেরালেন দুটো দারুণ বলে। কিন্তু আফগানিস্তান অধিনায়ক রহমত শাহ সেখানেই দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। শুরুটা ছিল ধীর, প্রথম ১৯ বলে করেছিলেন মাত্র ২ রান, কিন্তু এরপরের গল্প টা কেবল তাঁরই।

ইব্রাহিম জাদরানের সঙ্গে জুটি গড়লেন, জাদরান ৩৪ করে ফেরার পর হাশমতউল্লাহ শহিদিকে নিয়ে বাকি কাজটাও সারলেন নিজের হাতে। ৯০ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন, ম্যাচটা শেষ করে দিয়ে গেলেন তিনিই। যে পিচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি, সেখানে অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে খেলতে হয়।
শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে জিতল আফগানিস্তান, মাত্র ৩৫.৩ ওভারে। আর বাংলাদেশ বিদায় নিল সিরিজ থেকে। পারফরম্যান্সের বিচারে ফাইনালে ওঠা দুই দলই যোগ্য।
সিরিজের শুরুতে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের হার, আর এবার আফগানিস্তানের কাছে এই হার। বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের ভুল আর সমস্যাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে গেল। একসময় যে দুই দলকে বাংলাদেশ প্রায় বলে-কয়ে হারাত, তাদের কাছেই এমন লজ্জার হার থেকে যদি শিক্ষা না নেওয়া যায়, তাহলে দলটা হয়তো চিরকাল সম্ভাবনাময়ই থেকে যাবে। কিছু করে দেখানোর দল আর হয়ে ওঠা হবে না।











