বীরেন্দ্র শেবাগ ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির এক সিদ্ধান্তে প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিল শেবাগের ক্যারিয়ার। তবে শচীন টেন্ডুলকারের এক পরামর্শ বদলে দেয় সবকিছু।
শেবাগ ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছেন। তবে অর্জনের তালিকায় হয়তো ওয়ানডে বিশ্বকাপটা বাদই পড়ে যেত। কেননা বিশ্বকাপের আগেই ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের অন্তরালে ছিলেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে শেবাগের সিদ্ধান্তে বাধাঁ দেন আরেক কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকার।
শেবাগ জানান, ‘২০০৭-০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা এবং ভারতকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় তিনি গভীরভাবে হতাশ হয়েছিলেন। সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ খেলার পর তৎকালীন অধিনায়ক ধোনি তাকে একাদশ থেকে বাদ দেন।’

তিনি দীর্ঘ সময় দলের বাইরে ছিলেন। সেসময় শেবাগ মনে করেন, দলে সুযোগ না পেলে ওয়ানডে খেলে লাভ নেই, তার থেকে শ্রেয় অবসর নেওয়াটাই।
তিনি বলেন, ‘তখন আমি ভাবছিলাম, যদি দলে জায়গা না পাই, তাহলে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলার কোনো মানে নেই।’ তাঁর অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতে যান শচীনের কাছে। শচীন তখন তাকে বোঝান, আবেগের বশে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
শচীন শেবাগকে বলেন, ‘আমারও ১৯৯৯-২০০০ সালে এমন সময় এসেছিল, যখন মনে হয়েছিল ক্রিকেট ছেড়ে দেব। কিন্তু সেই সময় কেটে গেছে। তুমি এখন খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছ, এটাও কেটে যাবে। অন্তত ১-২ সিরিজ সময় দাও, তারপর সিদ্ধান্ত নাও।’

শচীনের পরামর্শে শেবাগ অবসরের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং দলে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে তিনি বেশ কয়েকটি ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন এবং ২০১১ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শেবাগের ওয়ানডে ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে ২৫১ টি ম্যাচ খেলে যেখানে তিনি ৩৫.০৫ গড়ে এবং ১০৪.৩৩ স্ট্রাইকরেটে ৮২৭৩ রান করেছেন। এর মধ্যে ১৫ টি সেঞ্চুরি এবং ৩৮ টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে।
ধোনির সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও, শচীনের সেই পরামর্শ না থাকলে হয়তো ভারত পেত না এক বিধ্বংসী ওপেনার, আর ২০১১ বিশ্বকাপও হতে পারত ভিন্ন রঙের।











