শিভাম ‘দ্য ইম্প্যাক্টফুল’ দুবে

তাতেও হয়ত তার আক্ষেপ নেই। তিনি আনসাং ক্লাচ হিরো থেকে যেতে পারলেই যেন খুশি। অতশত আলোচনার বৃত্তের প্রবেশ করলেই তো বাড়বে প্রত্যাশা,  চাপের অত্যাচার।

শিভাম দুবে দ্য আনসাং হিরো। তাকে ঘিরে আলোচনার বলয় নেই। হার্দিক পান্ডিয়ার মত তার নেই কোন ‘অরা’। অভিষেক শর্মা কিংবা ঈশান কিষাণদের মত আগ্রাসনের স্তুতিগাঁথা হয় না শিভামকে ঘিরে। সেসবের পরোয়া তিনি করেন না। নিরবে নিভৃতে শিভাম দলের জন্য কার্যকর সব ইনিংস খেলে যান। থেকে যান লোক চক্ষুর আড়ালে। দু’দুটো বিশ্বকাপ জেতানোর পরও তিনি পাচ্ছেন না প্রাপ্য মর্যাদা।

এই যেমন ফাইনাল ম্যাচের কথাই ধরুণ না। শেষ ওভারে জিমি নিশামকে তুলোধুনো করে তুলে নিলেন ২৪ খানা রান। তাতেই তো দিনশেষে ভারতের সংগ্রহ পেরিয়েছে ২৫০ রানের গণ্ডি। ৮ বলে ২৬ রানের ইনিংসটি নিয়ে আলোচনা হবে না, যতটা আলোচিত হবে সাঞ্জু স্যামসনের ৮৯ কিংবা অভিষেক শর্মার ৫২ রান।

শুধু এই একটাই ইনিংস না। সেমিফাইনালেও ২৫ বলে ৪৩ রানের ভীষণ কার্যকার এক ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন তিনি। রানআউট হওয়ার আগে ভারতের ২৫০ রানের সংগ্রহের ভীতটাকে পোক্ত করে দিয়ে যান। তারও আগে চার বলে আট রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

ওই ইনিংসের মাহাত্ম্য কত, তা বুঝতে হলে পরিস্থিতি একটু রোমন্থন করা প্রয়োজন। সেদিন শিভাম যখন ব্যাটিং করতে নামেন তখন ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল দশ বলে ১৭ রান। তিনি মাঠে নেমেই দুই বলে দুই চার হাঁকিয়ে শেষ ওভারের সমীকরণকে সরল বানিয়ে দেন। ভারত জিতে যায় সেই ম্যাচ।

তারও আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে শিভামের ১৭ বলে ২৭ রানের ইনিংসটি ভারতকে দিয়েছিল জয়ের মানসিক সংকল্প। তার ওই ইনিংসটির কল্যাণে ভারতের সংগ্রহ ১৫০ ছাড়িয়ে পৌঁছেছিল ১৭৫ রানে। সেদিন ঈশান কিষাণের ৭৭ রানের ইনিংসটি বাদে বাকিদের ব্যাটিং ছিল অতি নেতিবাচক। সেদিনও এই শিভাম নিরবে দলের জয়ের রাস্তার বাড়িয়েছিলেন দূরত্ব।

তারও আগে, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও ইম্প্যাক্টফুল ইনিংস এসেছিল শিভামের ব্যাট থেকে। সেদিনও ভারতের সংগ্রহকে ১৫০ থেকে ১৭৬ অবধি নিয়ে গিয়েছিলেন শিভাম। ১৬ বলে ২৭ রানের ইনিংসটি ভারতকে মানসিকভাবে এগিয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে।

তবুও হয়ত শিভাম থেকে যাবেন পর্দার আড়ালে। ক্রিকেট দুনিয়ার জমকালো আলোর কেন্দ্রে হয়ত তিনি কখনোই নিজেকে খুঁজে পাবেন না। তাতেও হয়ত তার আক্ষেপ নেই। তিনি আনসাং ক্লাচ হিরো থেকে যেতে পারলেই যেন খুশি। অতশত আলোচনার বৃত্তের প্রবেশ করলেই তো বাড়বে প্রত্যাশা,  চাপের অত্যাচার।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link