ধারাবাহিকতা, আগ্রাসন আর দলের প্রতি দায়বদ্ধতার পুরস্কার পেয়েছেন সোবহানা মোস্তারি। জানুয়ারি মাসের সেরা নারী ক্রিকেটার হিসেবে তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। ব্যাট হাতে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন, নিজের সক্ষমতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন, তাতেই মাসসেরার খেতাব উঠেছে নামের পাশে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী ক্রিকেটার হিসেবে এই সম্মান পেলেন সোবহানা। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন নাহিদা আক্তার। স্পিন জাদু দেখিয়ে অর্জন করেছিলেন এই খেতাব। তবে এবার ধারা পালটে গেছে। সোবহানা মোস্তারি ব্যাট হাতে জাদু দেখিয়ে প্লেয়ার অব দ্য মান্থের খেতাব বাগিয়ে নিয়েছেন।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের ছিল এক অপ্রতিরোধ্য অভিযান। ছয় ম্যাচ, ছয় জয়, একটিও হারের দাগ পড়েনি। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে নারী বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আর এই সাফল্যের নেপথ্যে ব্যাট হাতে ছিলেন সোবহানা মোস্তারি।
পুরো টুর্নামেন্টে ৪৫.৮০ গড়ে ২২৯ রান। স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৮৫, টি-টোয়েন্টির মাপকাঠিতে যা কেবল ভালো নয়, এক কথায় আধিপত্য। ইনিংসের শুরুতে হোক কিংবা চাপের মুহূর্তে, সোবহানার ব্যাট থেকে বেরিয়েছে আত্মবিশ্বাসের ঝলক। প্রয়োজনের সময় বাউন্ডারি, আবার প্রয়োজনমতো স্ট্রাইক ঘুরিয়ে নেওয়া, পরিণত এক ব্যাটারের সব গুণই দেখা গেছে তাঁর মাঝে।

এই দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বীও কম শক্তিশালী ছিলেন না। আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক গ্যাবি লুইস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাঁহাতি পেসার তারা নরিস ছিলেন মনোনয়নে। কিন্তু পরিসংখ্যান, প্রভাব আর ম্যাচজয়ী ইনিংস—সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের সোবহানা। ভোট আর পারফরম্যান্স মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত মাসসেরার মুকুট উঠেছে তাঁর মাথায়। এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের জন্য এক বিশেষ বার্তা হয়ে ধরা দিল











