চোটের চোখ রাঙানি তোয়াক্কা করেন না শ্রেয়াস

ফিল্ডিং থেকে ব্যাটিং সর্বত্রই শ্রেয়াস দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা, ভাবখানা এমন যেন কিছুই ঘটেনি। তবে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল তার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। 

আইসিউতে চলে গিয়েছিলেন। যেতে হয়েছিল অস্ত্রপচার টেবিলেও। সেখান থেকে ফিরেছেন শ্রেয়াস আইয়ার। একটা সিরিজ বাদে তার প্রত্যাবর্তন ভারত দলে। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নিজের ছাপটা তিনি ঠিকই ফেলে গেলেন। ফিল্ডিং থেকে ব্যাটিং সর্বত্রই তিনি দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা, ভাবখানা এমন যেন কিছুই ঘটেনি। তবে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল তার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে।

গেল বছরের শেষের দিকে অস্ট্রেলিয়া সফরে ছিল ভারত। সেই সফরে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে, ক্যাচ ধরতে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন শ্রেয়াস আইয়ার। বুকের পাজরে চাপ লেগে শরীরের ভেতরে হয়েছিল রক্তক্ষরণ। এরপর তো হাসপাতাল, অস্ত্রপচার শেষে পুনর্বাসন- দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে তিনি ফিরলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

এসেই প্রাণবন্ত শ্রেয়াস করলেন দূর্দান্ত রানআউট। প্রায় ৪১ মিটার দৌড়ে এসেছে, উইকেটের ২০ মিটার দূরে থেকে ছোড়া থ্রো-তে করেন লক্ষ্যভেদ। তাতে রান আউট হন ব্ল্যাকক্যাপস অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েল। এছাড়াও গ্লেন ফিলিপসের ক্যাচ লুফে নিয়ে সতীর্থ কুলদ্বীপকে পাইয়ে দিয়েছেন উইকেট।

তবে শ্রেয়াসের মূল দায়িত্ব ছিল ব্যাট হাতে, দলের জয় নিশ্চিতের রাস্তা মসৃণ করা। সে কাজটাও করে গেলেন তিনি দারুণ দক্ষতার সাথে। হাফসেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রানের দূরত্বে স্ট্যাম্প উড়ে যায় তার কাইল জেমিসনের বলে। তবে ৪৭ বলে ৪৯ রানের ইনিংসটি তার সামর্থ্যের প্রমাণরুপেই আবিভূর্ত হয়েছিল বাইশ গজে।

বিরাট কোহলির সাথে পাল্লা দিয়ে দলের রানের চাকা সচল রেখেছেন। চাপ ঘনিভূত হতে দেননি তিনি দলের উপরে। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়েও তার ছন্দে আমুল পতন ঘটেনি। তিনি সেই সাবলীল ভঙ্গিমায় ব্যাটিং করে গেছেন নীল রঙা জার্সি গায়ে। ক্যারিয়ারের এক টার্নিং পয়েন্টে দাঁড়িয়েও অবিচল শ্রেয়াস আইয়ার, নিজের স্নায়ুর সাথে যুদ্ধ জিতে বুঝিয়েছেন, চোট তো খেলারই অংশ। ওসবকে এত পাত্তা দিতে নেই।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link