ভাগ্য যখন দুয়ার খুলে সুযোগ এনে চৌকাঠে ছড়িয়ে দেয়, তখন সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হয় মোহাম্মদ সিরাজের মত করে। এবারের বিশ্বকাপে খেলারই কথা ছিল না তার। এমনকি একাদশেও জায়গা হওয়ার কথা নয় তার। সেই তিনি খেলতে নামলেন প্রথম ম্যাচে। নেমেই করলেন বাজিমাত।
হার্শিত রানার ইনজুরিতে সিরাজের ডাক এলো বিশ্বকাপের স্কোয়াডে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই জাসপ্রিত বুমরাহের খেলার কথা ছিল বটে। কিন্তু খানিকটা অসুস্থ বোধ করায় তিনিও খেললেন না প্রথম ম্যাচে। অতএব সিরাজের খুলে গেল দুয়ার। তিনি নীল রঙা জার্সি গায়ে নেমে পড়লেন মাঠে।

১৬২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে, ভারত থাকতে চেয়েছিল নির্ভার। সে জন্য অবশ্য শুরুতেই উইকেট তুলে নিতে হতো আমেরিকার। সেই কাজটাই করলেন মোহাম্মদ সিরাজ। সুইংয়ের মোহনীয় হেলদোলে তিনি নিজের প্রথম স্পেলেই তুলে নিলেন দু’খানা উইকেট। অ্যান্ড্রিস গাউসকে সিরাজ আটকে ফেলেন কাভারে। সহয়তার হাত বাড়িয়ে উইকেটটি তালুবন্দী করেন তিলক ভার্মা।
এরপর সাইতেজা মুক্কামাল্লাকেও আউট করেন সিরাজ। ১৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপের পাহাড়ে ততক্ষণে পিষ্ট যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের মনে ভয় ধরানোর সুযোগও সেখানেই হয় বিনষ্ট। এরপর ইনিংসের শেষ বলেও উইকেট তুলে সমাপ্তি রেখা টেনে দেন সিরাজ। নতুন বলে উইকেট তুলে ভারতকে সিরাজ ফেলে দিয়েছেন দোটানায়। এখন দলের কম্বিনেশন মেলানো হয়ে যাবে দায়।

শুধু উইকেট তুলেই তো তিনি ক্ষান্ত থাকেননি। কৃপণতার নিদর্শনও তিনি রেখে গেছেন। চার ওভারে স্রেফ ২৯ রান খরচা করেছেন। যার ১৩টি বলই ছিল ডট। এমন কার্যকর বোলারকে বসিয়ে রাখতে গিয়ে বিপাকেই পড়তে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টকে। নতুন বলে আর্শদ্বীপ সিংয়ের সাথে যে চলবে তার মূল লড়াই।











