একদিকে যখন ছন্নছাড়া আয়ারল্যান্ড, অন্যদিকে তখন ভীষণ হিসেবি শ্রীলঙ্কা। নিজেদের ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ জয়ের কোন বিকল্প নাই। এমন দিনে একটু রয়েসয়ে ব্যাটিংটাই করেছে লঙ্কানরা, কামিন্দু মেন্ডিস মাঠে নামার আগে পর্যন্ত। এরপর নিজেদের চেনা আঙিনার ফায়দা তুলে আইরিশদের তারা হারিয়েছে ২০ রানের ব্যবধানে।
কলম্বোর প্রেমেদাসা স্টেডিয়ামে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত আয়ারল্যান্ডের। উইকেটের আচরণই যেন তারা বুঝতে চেয়েছিল। সেই বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে লঙ্কান ব্যাটারদের সংগ্রাম চালাতে হয়েছে। আয়ারল্যান্ড ছন্নছাড়া হওয়ার আগে অবধি, শ্রীলঙ্কা যেন ছিল ভীষণ চাপে। কিন্তু কামিন্দু মেন্ডিস সকল সমীকরণ বদলে দিলেন স্বল্প সময়ের প্রবল ঝড়ে।

১৯ বলের ৪৪ রানের ইনিংসটিকে তিনি সাজিয়েছিলেন দুই ছক্কা ও চারটি চারে। ২৩১ স্ট্রাইকরেটের সেই ইনিংসটিই শ্রীলঙ্কাকে ১৬৩ অবধি পৌঁছে দিয়েছে। তার জন্য অবশ্য একজন কুশল মেন্ডিসকে ধৈর্য্য ধরে টিকে থাকতে হয়েছে, খেলতে হয়েছে ১৩০ স্ট্রাইকরেটে ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংস।
স্নায়ুচাপে যে আয়ারল্যান্ড কাবু হয়ে আছে, সে প্রমাণ তো ব্যারি ম্যাককার্থিই দিয়ে দিয়েছিলেন এক ওভারে ১১ খানা বল ছুড়ে। সেই স্নায়ুচাপ টপকে জয়ের জন্য প্রবল লড়াইটা আয়ারল্যান্ড করতে পারেনি শেষ পর্যন্ত। তবে রস অ্যাডায়ার ও হ্যারি টেক্টরদের মাঝারি মানের ইনিংসগুলো আইরিশদের পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে।

কিন্তু মাহিশ থিকসানা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা তিনটি করে উইকেট তুলে নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। শেষ অবধি ১৪৩ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দারুণ জয়। এ যাত্রা শিরোপা উদ্ধারে গিয়ে সমাপ্ত হলে খুশির হিড়িক পড়বে লঙ্কাদ্বীপে।











