ভিএআর বাঁধা উড়িয়ে অপরাজেয় ছন্দে রিয়াল মাদ্রিদ

তিন ম্যাচে তিন জয়—অপরাজেয় ছন্দে ছুটছে রিয়াল মাদ্রিদ। উত্তেজনায় ভরপুর এই লড়াই আবারও প্রমাণ করল, জেতার মানসিকতা আর মানসম্মত আক্রমণভাগই তাদের আসল শক্তি।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে টান টান উত্তেজনায় ভরা এক রাতে টানা তিন জয়ের স্বাদ পেল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচে তিন-তিনবার ভিএআরের সিদ্ধান্তে গোল বাতিল হলেও শেষ পর্যন্ত মায়োর্কাকে ২-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা।

শুরুর মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ঘরের মাঠে খেলা মাদ্রিদ। সপ্তম মিনিটেই ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের চোখ ধাঁধানো পাস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে জালে বল জড়ান। কিন্তু, ভিএআরের সূক্ষ্ম চোখে ধরা পড়ে তিনি অল্পের জন্য অফসাইড।

গোল খুঁজতে মরিয়া মাদ্রিদ হঠাৎ করেই পিছিয়ে যায়। ১৮তম মিনিটে কর্নার থেকে গোল পায় মায়োর্কা। ভেদাত মুরিকি পেনাল্টি বক্সের ভেতরে শক্তি খাটিয়ে পিঠ আর কাঁধের মিশ্রণে বল জালে ঠেলে দেন, হতবাক হয়ে পড়ে বার্নাব্যু।

তবে প্রতিক্রিয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়ে রিয়াল। ৩৭ তম মিনিটে চমৎকার এক কর্নার রুটিন থেকে ডিন হুইসেন বল বাড়ান তরুণ আরদা গুলেরের কাছে। ২০ বছর বয়সী এই তুর্কি প্রতিভা কাছাকাছি থেকে হেড করে বল জালে পাঠান — কাঁধ থেকে চাপ নামায় রিয়াল।

আর এক মিনিট পরই স্বপ্নের মতো ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ভিনিসিয়াস জুনিয়র বাম দিকে বল নিয়ে ছুটে যান, ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ে বাঁকানো শটে গোল নিশ্চিত করেন—২-১ গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও গোল পান এমবাপ্পে, তবে সেটিও বাতিল হয় ভিএআরের ফাঁদে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫ মিনিটে গোল করেছিলেন গুলের, কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় তার হাতে বল লেগেছিল আগে। হতাশা বাড়লেও খেলা থামায়নি মাদ্রিদ।

ম্যাচের শেষদিকে দম ধরে রেখেছিল দর্শকরা। সমতায় ফেরার দোরগোড়ায় ছিল মায়োর্কা। কিন্তু আলভারো ক্যারেরাস রিয়ালের ত্রাণকর্তা হয়ে দাঁড়ান। গোলে যাওয়া বল লাইনের ওপর থেকে অবিশ্বাস্য এক ক্লিয়ারেন্সে রক্ষা করেন দলকে।

বদলির এই তারকাই ম্যাচ শেষে জানালেন আবেগঘন অনুভূতি, ‘আমি সই করার দিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম—সবকিছু উজাড় করে দেব দলের জন্য। আজকের রাতটা স্বপ্নের মতো। আমি ভীষণ খুশি। আসল ব্যাপার ছিল তিন পয়েন্ট, আর আমরা তা পেয়েছি।’

জুলাইয়ে বেনফিকা থেকে যোগ দেওয়া ক্যারেরাসের এই নৈপুণ্যে খুশি কোচ জাবি আলোনসোও। ম্যাচ শেষে তিনি বললেন, ‘ফলাফলই বলে দিচ্ছে আমরা সঠিক পথে হাঁটছি। আন্তর্জাতিক বিরতির পরই শুরু চ্যাম্পিয়নস লিগ। তার আগে কিছু কাজে শান দিতে হবে। তবে সামগ্রিকভাবে আমি সন্তুষ্ট।’

তিন ম্যাচে তিন জয়—অপরাজেয় ছন্দে ছুটছে রিয়াল মাদ্রিদ। উত্তেজনায় ভরপুর এই লড়াই আবারও প্রমাণ করল, জেতার মানসিকতা আর মানসম্মত আক্রমণভাগই তাদের আসল শক্তি।

Share via
Copy link