দল বানায় ফেসবুক, মাঠে ডুবে বাংলাদেশ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আলাপ একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর এরই মাশুল বারবার গুণছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আলাপ একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর এরই মাশুল বারবার গুণছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

এই যেমন মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা – একটা জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত। অনূর্ধ্ব ১৯ পর্যায়ের নেতৃত্বের সাফল্য গণমানুষের সামনে মিরাজকে ‘নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করে।

বিসিবি গণমানুষের কথা শুনেছে, নাজমুল হোসেন শান্ত খুব খারাপ না করলেও তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কারণ ফেসবুকের আওয়াজ তাঁর বিপক্ষে ছিল। ফলাফল, পছন্দের ফরম্যাটে এখন ধুকছে বাংলাদেশ।

একই কথা সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের ক্ষেত্রেও সত্য। দেশি পণ্যের জয়োগান গেয়ে অনেকদিন যাবৎ তাঁকে কোচ হিসেবে দেখছে চেয়েছে ফেসবুক জনতা। তাঁকে বোর্ড দায়িত্ব দিয়েছে, কার্যত তিনিই এখন দল সামলান, কিন্তু দল চলে গেছে খাদের কিনারায়।

এখন সেই স্যোশাল মিডিয়ার কোঁপ নেমে আসছে জাকের আলীর ওপর। তাঁকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার মঞ্চ প্রস্তুত। টি-টোয়েন্টিতে একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন, ফিরে এসেও পারফরম করতে পারেননি। আত্মবিশ্বাস তলানিতে। এই অবস্থায় নির্বাচকরা ফেসবুকের আলাপকেই বেশি পাত্তা দেবেন।

আরেকা এমন জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত হতে পারে মোহাম্মদ আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচ করে জাতীয় দলে আনা। তাঁকে নাকি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। আর এই প্রস্তাবেও মূল ইন্ধন জুগিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

এর আগে একই রকম ঘটনা অনেকবারই ঘটেছে। স্যোশাল মিডিয়া দেখে সাব্বির রহমানকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সার্ভিস দিতে পারেননি, আবার দ্রুতই ছেটে ফেলা হয়। অথচ, এই সময়ে তাঁকে দলে নেওয়া আরও বেশি ভ্যালিড, কারণ তাঁর ব্যাটে এখন রান আছে।

একই কথা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও সত্য। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখে প্রভাবিত হন। জাকের আলী যেমন এখন ব্যাটে বলই লাগাতে পারছেন না, কারণ তিনি সমালোচনাকে বেশি ‘পার্সোনালি’ নিয়ে ফেলছেন। শামিম হোসেন পাটোয়ারির ক্ষেত্রেও একই কথাই খাটে।

সমর্থনের বিষয়টা এমনই। একদিন মাথায় তুলবে, একদিন মাথা থেকে নামাবে। এটা পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে। সমর্থকরাও নিজেদের মত বিকল্প খুঁজবে। দলের প্রতি তাঁদের অধিকার আছে। এখানে জাতীয় আবেগ জড়িত।

ফলে, তাঁদের কথা বলার অধিকার দিতে হবে। কিন্তু, তাদের সব সমালোচনা, সব পরামর্শ অনুসরণ করার দরকার নেই। না হলে, বারবার একই ভুলের খেসারত গুণতে হবে বাংলাদেশ দলকে।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link