রোনালদোদের বিদায়ে স্পেনের উৎসব!

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের শেষ অধ্যায়টা লেখা হলো নিঃশব্দ এক দীর্ঘশ্বাসে। নব্বই মিনিট পর্যন্ত যে লড়াইয়ে পর্তুগাল বারবার আশা জিইয়ে রেখেছিল, সেই স্বপ্নকে যোগ করা সময়ে ভেঙে চুরমার করে দিলেন মিকেল মেরিনো।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের শেষ অধ্যায়টা লেখা হলো নিঃশব্দ এক দীর্ঘশ্বাসে। নব্বই মিনিট পর্যন্ত যে লড়াইয়ে পর্তুগাল বারবার আশা জিইয়ে রেখেছিল, সেই স্বপ্নকে যোগ করা সময়ে ভেঙে চুরমার করে দিলেন মিকেল মেরিনো। তাঁর একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। আর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল, সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের আজীবনের অপূর্ণ স্বপ্নও।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছে দুই দলই। ম্যাচের নবম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। এরপরও একের পর এক আক্রমণে পর্তুগালের রক্ষণকে চাপে রাখে স্প্যানিশরা।একের পর এক আক্রমণ, পাল্টা জবাব, সুযোগ মিসের ফুলঝুরি, সবকিছু নিয়েই গোলশূন্য থেকে বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পরও একই চিত্র। স্পেন আক্রমণ চালিয়ে গেছে, পর্তুগালও সুযোগ খুঁজেছে। তবে ম্যাচের ৫৬তম মিনিট পর্তুগালের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন নুনো মেন্দেস। পর্তুগালের রক্ষণে কিছুটা প্রভাব পড়ে।

ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে স্পেনের চাপ। অবশেষে সেই চাপের ফল আসে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে। ফেরান তোরেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো ঠান্ডা মাথায় বল জড়িয়ে দেন জালে। সেই এক গোলেই স্তব্ধ হয়ে যায় পর্তুগালের স্বপ্ন, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন।

শেষ বাঁশি বাজতেই একদিকে স্পেনের উৎসব, অন্যদিকে রোনালদোর নিঃশব্দ বিদায়। বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন নিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বমঞ্চে নেমেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। ফুটবলে প্রায় সব শিরোপাই তাঁর ঝুলিতে উঠেছে, শুধু বিশ্বকাপ ট্রফিটাই থেকে গেল অধরা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link