টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই চার-ছক্কার ঝলক, এক ওভারের ঝড়ে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যাওয়ার গল্প। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস বলছে, শিরোপার রাস্তা সব সময় এতটা ঝলমলে নয়। অনেক সময় ট্রফি নির্ধারিত হয় সেই নীরব মুহূর্তগুলোতে, যেখানে নেই চার-ছক্কার উল্লাস। আছে শুধু সিঙ্গেল, ডাবল আর চাপ সামলানোর কঠিন হিসাব। শেষ তিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের রান বণ্টন সেই বাস্তবতাই সামনে আনছে।
২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। পুরো টুর্নামেন্টে তারা করেছে ৯৯০ রান। এর মধ্যে ৫৭০ রান এসেছে চার-ছক্কা থেকে, যা মোট রানের ৫৭.৬ শতাংশ।
বাকি ৪২০ রান এসেছে বাউন্ডারি ছাড়াই অর্থাৎ বাউন্ডারি-নির্ভর হয়েও অস্ট্রেলিয়া এমন এক ভিত্তি তৈরি করেছিল, যেখানে পূর্ণাঙ্গ টি-টোয়েন্টি ইনিংস গড়ে উঠেছে শুধু স্ট্রাইক রোটেশনের ওপর। নকআউট পর্বে বাউন্ডারি বেড়ে দাঁড়ায় ৬০.৬ শতাংশে, তবে তার আগ পর্যন্ত ইনিংস বাঁচিয়ে রাখার কাজটা করেছে সিঙ্গেল-ডাবলই।

এর ঠিক এক বছর পর, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গল্পটা ঘুরে যায় অন্যদিকে। ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয় এমন এক টুর্নামেন্টে, যেখানে তারা বাউন্ডারির চেয়ে বেশি রান করেছে স্ট্রাইক রোটেট করে। মোট ৮৪৯ রানের মধ্যে চার-ছক্কা থেকে এসেছে ৪০০ রান, যা মোট রানের ৪৭.১ শতাংশ। আর বাউন্ডারি ছাড়া রান ছিল ৪৪৯, যা ৫২.৯ শতাংশ।
গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের বাউন্ডারির হার মাত্র ৪১ শতাংশের আশপাশে। কিন্তু নকআউটে এসে প্রয়োজনের মুহূর্তে গিয়ার বদল পৌঁছে যায় ৫৮ শতাংশে। এই বিশ্বকাপ যেন স্পষ্ট বার্তা দেয়, শুধু চার-ছক্কার ওপর ভর করে বিশ্বকাপ জেতা যায় না, দরকার পরিস্থিতি বুঝে রানের ধরন বদলানোর ক্ষমতা।
২০২৪ সালের বিশ্বকাপে ভারত ফিরিয়ে আনে বাউন্ডারির ঝলক। পুরো টুর্নামেন্টে ভারত করেছে ১২৫৬ রান, যার ৭৩৪ এসেছে চার-ছক্কা থেকে, শতকরা ৫৮.৪ ভাগ। বাইরে থেকে দেখলে ভারতের শিরোপা জয়ের পথটা বাউন্ডারি থেকে এসেছে মনে হলেও বাস্তবতা আরও গভীর। বাউন্ডারি ছাড়া ভারতের রান ছিল ৪২০। এমনকি ফাইনাল ম্যাচেও ভারতের মোট রানের ৪৬ শতাংশের কাছাকাছি এসেছে সিঙ্গেল-ডাবল থেকে।

এই তিন বিশ্বকাপ একসঙ্গে দেখলে একটা বিষয় পরিষ্কার, বাউন্ডারি হলো অ্যাক্সিলারেটর, কিন্তু স্টিয়ারিং নয়। ম্যাচকে গতি দেয় চার-ছক্কা, কিন্তু ম্যাচকে নিয়ন্ত্রণে রাখে স্ট্রাইক রোটেশন। হয়ে ওঠে চাপ সামলানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তাই তো ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে হলে দলগুলোর বাউন্ডারি আর স্ট্রাইক রোটেশনের মাঝে সূক্ষ্ম ভারসাম্য দরকার।











