দুইয়ে দুই সুরিয়াকুমার যাদবের। অধিনায়ক হিসেবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে সফলতা তার শতভাগ। এশিয়া কাপের পর, ভারতকে তিনি বানালেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন। খুব সহজেই বলা যায়, ‘ওমন দল থাকলে সবাই জিততে পারে’। কিন্তু ওমন শক্তিধর দলটাকেও যে বানাতে হয় একটা ইউনিট। সেখানেই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন সুরিয়া।
তারকার অভাব নেই ভারতে। সেদিক বিবেচনায় ইংল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকাকে পিছিয়ে রাখবেন কি করে? অস্ট্রেলিয়ার শক্তি খর্ব হয়েছিল বটে। তবুও মাইটি অস্ট্রেলিয়ার তকমা গায়ে জড়িয়ে তারা এসেছিল বিশ্বকাপে। কেউ যা পারেনি, সেটাই করে দেখিয়েছেন সুরিয়া। নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই উঁচিয়ে ধরেছেন শিরোপা।
কারণ তিনি দলের তারকা খেলোয়াড়দের দলে আগে সেই দর্শনটা বোঝাতে পেরেছিলেন। সে কারণেই সুযোগ থাকার পরও সাঞ্জু স্যামসন স্রেফ ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির দিকে অগ্রসর হননি। বরং তার প্রতি হওয়ার অবজ্ঞা ভুলে তিনি দলের চাহিদা মেটাতে ব্যাটিংটা করেছেন বাইশ গজে।

অভিষেক শর্মা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ফ্লপ। তবুও তিনি আগলে রেখেছেন তরুণ ব্যাটারকে। কখনোই হয়ত টের পেতে দেননি, দল অভিষেকের বাজে ফর্মে হতাশ। সেই ভরসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলেই ফাইনালের মঞ্চে অভিষেক দুরন্ত হাফসেঞ্চুরিতে দলকে এনে দিয়েছেন উড়ন্ত সূচনা।
ফাইনালের মঞ্চে রাজ্যের চাপ। সেই চাপের মুহূর্তে শিভাম দুবে ফেলে দিলেন সহজ ক্যাচ। মোটেও অযাচিত কোন চেঁচামেচি করেননি সুরিয়া। বরং এগিয়ে গিয়ে হাত মিলিয়েছেন শিভামের সাথে, বার্তা স্পষ্ট- দল তোমার সাথে আছে। এখানেই কি শেষ? ড্যারিল মিচেলের বরাবর থ্রো করলেন আর্শদ্বীপ সিং। চটে যান মিচেল।
নিজ দলের বোলারকে আগলে রাখতে সুরিয়া এগিয়ে গিয়ে এক প্রকার ক্ষমা চেয়েছেন মিচেলের কাছে। বুঝিয়ে বলেছেন, ‘ও ইচ্ছে করেনি’। এখানেই শেষ নয়। সুরিয়া জানেন তার দলের সেরা অস্ত্র জাসপ্রিত বুমরাহ। কিন্তু তাকে ব্যবহার কি করে করতে হবে- সে পরিকল্পনা তো ছিল কেবল তারই।

বিশ্বকাপের শুরুতে বুমরাহকে ব্যবহারে সফলতা ধরা দেয়নি। তাতেও বিচলিত হননি সুরিয়া। আস্থা রেখেছেন, বুঝে-শুনে ব্যবহার করেছেন। সেমিফাইনালে জাসপ্রিতের দুই ওভারেই মূলত ম্যাচ জিতেছে ভারত। ফাইনালে তো বুমরাহ হয়েছেন ম্যাচ সেরা। এখানেই বরং সুরিয়ার সফলতা।
দলের তরুণদের আগলে রাখা, নিজের হাতে থাকা অস্ত্রের যথাযথ ব্যবহার করা, তারকা ক্রিকেটারদেরকে ‘দল প্রাধান্য’ দর্শনে একিভূত করা- এসব কিছুতেই দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন সুরিয়া। যোগ্য নেতা হিসেবে সবকিছুর সমন্বয় তিনি ঠিকঠাক করতে পেরেছিলেন বলেই, তার হাতে শোভা পাচ্ছে শিরোপা।










