২০২৫ সাল সুরিয়াভানশির জন্য কেবল একটি বছর নয়, বিশ্ববাসীকে স্বীয় আগমনী বার্তা জানান দেওয়ার অধ্যায়। নির্ভীক ব্যাটিং, অসম্ভব আত্মবিশ্বাস আর পরিণত মানসিকতায় আইপিএল থেকে শুরু করে ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা যুব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, সব জায়গাতেই রেকর্ডের পাহাড় গড়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান থেকে শুরু করে দ্রুততম শতকের অভিজাত তালিকায় ঢুকে পড়া, সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল যেন সুরিয়াভানশির নামেই লেখা। নেমেছেন, খেলেছেন, গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড।
আইপিএল ২০২৫ মৌসুমে রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে বৈভব সুরিয়াভানশির যাত্রা শুরু থেকেই ছিল ঐতিহাসিক। মাঠে নামার আগেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ আইপিএল ইতিহাসে চুক্তিবদ্ধ হওয়া সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার ছিলেন তিনি।
আইপিএল অভিষেকের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে জানিয়ে দেন যে, ক্রিকেট বিশ্বকে শাসন করতে আসছেন ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ বলে শতক করে আইপিএল ইতিহাসে ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েন।

সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার – তাঁর করা রানের ৯৩ শতাংশই আসে বাউন্ডারি থেকে। ১০১ রানের মধ্যে ৯৪ রান আসে চার ও ছক্কায়, যা আইপিএল শতকে সর্বোচ্চ বাউন্ডারি শতাংশের নতুন রেকর্ড। যশস্বী জয়সওয়ালের সাথে ৬৬ রানের জুটি গড়ে রাজস্থান রয়্যালসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পার্টনারশিপের রেকর্ডও গড়েন এই কিশোর।
আইপিএলের পর সুরিয়াভানশির ব্যাট থামেনি ঘরোয়া ক্রিকেটেও। বিজয় হাজারে ট্রফি ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিহারের হয়ে খেলতে নেমে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে শতক করা ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হন সুরিয়াভানশি। অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে মাত্র ৮৪ বলে খেলেন ১৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
এই ইনিংসে ১৫টি ছক্কা হাঁকিয়ে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের একটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে যৌথভাবে শীর্ষে ওঠেন সুরিয়াভানশি। তাঁর ১৯০ রানের মধ্যে ১৫৪ রানই আসে বাউন্ডারি থেকে, যা তাঁকে রোহিত শর্মা ও মার্টিন গাপটিলের মতো তারকাদের পাশে নাম লেখায়।

২০২৫ অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপে এক আসরে সর্বোচ্চ ২০টি ছক্কা হাঁকান বৈভব সুরিয়াভানশি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৭১ রানের ইনিংসটি যুব ওয়ানডেতে ভারতের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
জুলাইয়ে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বিপক্ষে মাত্র ৫২ বলে শতক হাঁকিয়ে যুব ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। ডিসেম্বরে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে অপরাজিত ১০৮ রান করে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হন।
বর্ষজুড়েই ক্রিকেটবিশ্ব দেখেছে এক উদীয়মান কিশোরের ব্যাট হাতে বিশ্ব শাসনের গল্প। ভারতীয় ক্রিকেট যে এক বিস্ফোরক সৈনিক পেতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।











