টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই যেন অনিশ্চয়তার মিশেল। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর স্বাগতিক দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা হওয়ার নিমিত্তে স্বাভাবিকভাবেই এখানে দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোরই দাপট দেখানোর কথা। কিন্তু ব্যাট বলের খেলা মাঠে গড়াতেই যেন একদম বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।
উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে দক্ষ স্পিন আক্রমণ নিয়ে সজ্জিত ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা কিংবা আফগানিস্তানের মতো দলগুলো বরাবরই অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু এই চেনা মাঠেই যেন এখন এশীয় পরাশক্তিদের অস্তিত্ব সংকটে। টুর্নামেন্টের ১৯ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে কোন এশিয়ার দেশ না থাকার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
২০০৭ সালের সেই উদ্বোধনী আসর থেকে আজ অবধি প্রতিটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ চারে অন্তত একটি এশীয় দল নিজেদের জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ এর চিত্রনাট্য যেন কোনো এক ট্র্যাজেডির দিকে মোড় নিচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের পর ভারতের সেমিফাইনালের পথ এখন কণ্টকাকীর্ণ। নিজেদের ভাগ্য এখন আর নিজেদের হাতে নেই, বরং তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের ফলাফলের দিকে। সেই সাথে নেট রান রেটের জটিল সমীকরণ তো আছেই।
আরেক স্বাগতিক দেশ শ্রীলঙ্কা তো ইতোমধ্যেই যুক্ত হয়েছে বাতিলের খাতায়। গ্রুপ পর্বে দারুণ সব পারফরম্যান্স দেখালেও সুপার এইটে এসেই নিভে গেছে লঙ্কান লায়নদের আলো।
অন্যদিকে, এক ম্যাচে হার ও এক ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে পাকিস্তানেরও এখন বেহাল দশা। দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন তাকিয়ে আছে ‘যদি-কিন্তু’-র অলৌকিক সমীকরণের দিকে।

আসর শুরুর আগেই নিরাপত্তাজনিত কারণে ও আইসিসির দ্বিমুখিতার ফলে আসর থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। চার ম্যাচের দুইটিতে হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় আফগানিস্তানও।










