সাত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। দশম আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ২০১৬ সালের পর আবারও এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হচ্ছে ভারত। আয়োজক দেশ, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেই সাথে ফর্মের তুঙ্গে থাকা দল, সব মিলিয়ে এবার টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই শিরোপার দৌড়ে ভারতকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা।
এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত দুইবার ট্রফি জিতেছে। ২০০৭ সালে প্রথম আসরেই শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছিল দলটি। এরপর কয়েকবার শেষ চার বা ফাইনালে পৌঁছালেও ২০২৪ সালের আগে আর শিরোপা জেতা হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই যাত্রায় ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আধুনিক যুগে ভারতের সবচেয়ে বড় তিন তারকা। মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা।

২০০৭ সালের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই ধোনির নেতৃত্বে বিশ্ব জয় করে ভারত। ফাইনালে পাকিস্তানকে পাঁচ রানে হারিয়ে আসে সেই ঐতিহাসিক সাফল্য। বিশেষ করে শেষ ওভারে জোগিন্দর শর্মাকে বল দেওয়ার সিদ্ধান্ত আজও ধোনির অধিনায়কত্বের সাহসী উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।
পরবর্তী পাঁচ আসরেও অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্বটা ছিল ধোনির কাঁধেই। ২০০৯ ও ২০১০ সালে ভারত সুপার এইট থেকে বিদায় নেয়। ২০১২ সালে ভালো খেলেও বাদ পড়ে নেট রান রেটের কারণে। ২০১৪ সালে ফাইনালে উঠেও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যায় ভারত।
২০১৬ সালে ঘরের মাঠে ফেভারিট হয়েও সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারে। সব মিলিয়ে ধোনির নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩৩ ম্যাচে ২১টি জয় পায় ভারত। যেখানে জয়ের শতাংশ ৬৪.০৬।

ধোনি পরবর্তী সময়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের হাল ধরেন বিরাট কোহলি। তবে শুধুমাত্র ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। সেই আসরে ভারত পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায়। পরের ম্যাচগুলো জিতলেও সেমিফাইনালে ওঠা সম্ভব হয়নি।
তাই কোহলির বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান দাঁড়ায় পাঁচ ম্যাচে তিন জয় ও দুই হারে। যেখানে জয়ের শতাংশ ৬০। কোহলি সরে দাঁড়ালে অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন দলের আরেক তারকা রোহিত শর্মা। ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথমবার আইসিসি ইভেন্টে নেতৃত্ব দেন তিনি। সেই আসরে দল সেমিফাইনালে উঠলেও ইংল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয়।
তবে ২০২৪ সালে বদলে যায় ছবিটা। রোহিত-দ্রাবিড় জুটি নতুন কৌশলে সাজায় দলকে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে ভারত। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে প্রায় ১৭ বছর পর টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব জয়ের স্বাদ পায় ভারত।

অধিনায়ক হিসেবে রোহিতের টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যানই বলে দেন কেন তিনি বিশ্বজয়ের তকমা পেয়েছেন। এই ফরম্যাটে বিশ্বমঞ্চে মোট ১৪টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১২ জয়ের বিপরীতে হেরেছেন কেবল ২টিতে। যেখানে জয়ের শতাংশ ৮৫.৭১!










