এড়িয়ে যাওয়া স্পটলাইটের কেন্দ্র এখন তাইজুল

বিন্দু বিন্দু পানি, আর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা জড়ো করে তাইজুল আজ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

তাইজুল ইসলাম এখন টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। বরাবরই স্পটলাইটের আলো পাশ কাটিয়ে গেছে তাইজুলকে। কিন্তু সেসবে ভ্রুক্ষেপ করেননি তিনি। ইতিহাসের বুকে তিনি নিজের আলাদা একটা জায়গা সৃষ্টি করে যেতে চেয়েছেন। অবশেষে, সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য তার বাস্তব হল।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই সাকিব আল হাসানকে ছাপিয়ে গিয়েছিলেন তাইজুল। তার উইকেট শিকারের সংখ্যাকে একটা মাইলফলক পার করা ছিল স্রেফ সময়ের বিষয়। মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনেই তাইজুল বনে যাবেন ২৫০ উইকেটের মালিক, সেটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু সবুরে মেওয়া ফলে- তাইতো তাইজুলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও একটি দিন।

যে সাকিবকে হটিয়ে তাইজুল বনে গেছেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারি, সেই তাইজুলকেই অভিবাদনও জানিয়েছেন সাকিব। তাইজুলের এই ২৫০ উইকেটের যাত্রা যেন এখানেই না থামে, সে প্রত্যাশা ঝড়েছে সাকিব আল হাসানের কাছ থেকে। তাইজুলও নিশ্চয়ই এখানেই থেমে যেতে চাইবেন না।

ক্যারিয়ারে একটা দীর্ঘ সময় তাইজুলকে থাকতে হয়েছে সাকিব আল হাসানের ছায়াতলে। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল শ্রীলঙ্কার রঙ্গনা হেরাথের ক্ষেত্রে। মুত্তিয়া মুরালিধরনের অতিমানবীয় ঘূর্ণি জাদুতে, আড়ালে থেকেছেন দুর্ধর্ষ হেরাথ। কিন্তু ঠিকই মঞ্চের প্রধান অভিনেতা হওয়ার সুযোগ তিনি লুফে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ভাগে।

তাইজুলের ক্ষেত্রেও ঘটছে ঠিক তেমনটাই। সাকিবের অবর্তমানে, বাংলাদেশের টেস্ট দলের প্রধান স্পিন অস্ত্র এখন তাইজুল। আর প্রতিনিয়ত তিনি প্রমাণ করে যাচ্ছেন নিজের সামর্থ্য। ঘরের মাঠে তিনি একা হাতে ম্যাচ ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে। তাকে নিয়ে স্বল্প আলোচনার জবাব তিনি বরাবরই দিয়ে গেছেন উইকেট শিকার করে।

সামর্থ্য বা সক্ষমতা কোন কিছুরই কমতি তার কখনোই ছিল না। চর্মগোলকের মায়াবী ঘূর্ণির জাদু তিনিও সৃষ্টি করতে জানতেন। তবে তাইজুলের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট, দীর্ঘক্ষণ একই ধাঁচে বোলিং করে যাওয়া। একাগ্রতা আর অধ্যাবসায়ের সমন্বয়ে তিনি তুলে নিয়েছেন প্রতিপক্ষের এক একটি উইকেট। বিন্দু বিন্দু পানি, আর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা জড়ো করে তাইজুল আজ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

এই উইকেটের ট্যালিটাকে তিনি বেশ উঁচুতেই নিতে চাইবেন। যেখান থেকে তাকে সহজে হটানো যাবে না। যে স্পটলাইট তাকে এড়িয়ে গেছে সর্বদা, সেই স্পট লাইট যেন বাকিটা সময় তার উপরই থাকে- তেমন এক স্থানে নিশ্চয়ই নিজেকে রেখে যেতে চাইবেন তাইজুল। ক্যারিয়ারের এই দ্বিতীয় ধাপে, তিনি হয়ে উঠবেন আরও তুখোড় ও দুর্ধর্ষ, তেমন প্রত্যাশা বাড়াবাড়ি নয় নিশ্চয়ই।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link