তামিম-ইমনদের গড় মুস্তাফিজের সমান!

যত গর্জে তত বর্ষে না। তানজিদ তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমনের ওপেনিং জুটি যেন এই প্রবাদের প্রতিচ্ছবি। এশিয়া কাপের আগে এই দু'জনকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে আসর শেষে তাঁরা এখন মুস্তাফিজুর রহমানের কাতারে।

যত গর্জে তত বর্ষে না। তানজিদ তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমনের ওপেনিং জুটি যেন এই প্রবাদের প্রতিচ্ছবি। এশিয়া কাপের আগে এই দু’জনকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে আসর শেষে তাঁরা এখন মুস্তাফিজুর রহমানের কাতারে।

এশিয়া কাপ শুরুর আগে বাংলাদেশ দলের এক্স ফ্যাক্টর হিসেবে ভাবা হয়েছিল তামিম-ইমনের ওপেনিং জুটিকে। শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলের ভিত গড়ে দেওয়ার জন্য তাদের দিকেই তাকিয়ে ছিল সবাই। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের খেড়খাতাও আশাবাদী করে তুলেছিল।

আসর শুরুর আগে তামিম এ বছরে খেলছিলেন ১১ ম্যাচ, ১৫০ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ৩১০ রান। অন্যদিকে ইমনের ব্যাট থেকে ১০ ম্যাচে এসেছিল ২৮৫ রান, তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৫৯। এমনকি নয়টি টোয়েন্টিতে তাঁদের জুটি থেকে এসেছিল ২৪৪ রান। এটাই ছিল দলের যেকোনো উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রান। আর যার স্ট্রাইক রেট ১৫৪.৪৩।

তবে এশিয়া কাপের মঞ্চে তাঁরা যেন ভিন্ন রূপে এলেন। দলকে ভালো শুরু এনে দেওয়ার বদলে আরও বিপদে ফেলার দায়িত্ব নিলেন। দু’জনে দুই ম্যাচই কেবল ব্যাট করেছেন একসাথে। জুটি থেকে এসেছে মাত্র ২৪ রান।

ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানটা আরও বেশি ভয়ানক। ইমন চার ম্যাচ খেলে করেছেন ৪০। গড় দাঁড়িয়েছে ১০, স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০২। অন্যদিকে তামিমের ব্যাট থেকে পাঁচ ম্যাচে এসেছে ৬৭ রান। ব্যাটিং গড় ১৩.৪০। গড়ের হিসাবে যা অনেকটা দলের ১১ নম্বর ব্যাটার মুস্তাফিজের কাছাকাছি।

মুস্তাফিজ ছয় ম্যাচে ব্যাট করেছেন দুই ইনিংস, রান করেছেন ১২। একবার আউট হওয়ায় তাঁর গড়ও দাঁড়িয়েছে ১২। যা ইমনের থেকে বেশি আর তামিমের কাছাকাছি।

এই পরিসংখ্যান কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক হলেও দলের জন্য নিশ্চয় চিন্তার বিষয়। ওপেনার ব্যাটারদের এমন পারফরম্যান্স পর দলের জন্য ভালো ফলাফল নিয়ে আসাটা বড্ড কঠিন। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ বাংলাদেশের এমন এশিয়া কাপের ব্যর্থতা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link