‘ফিফটি ইন স্টাইল’। মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন তানজিদ হাসান তামিম। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একা হাতেই তিনি সিরিজ জেতালেন বাংলাদেশকে। টানা পাঁচটি ক্যাচ লুফে নেওয়ার পর, ব্যাট হাতেও দারুণ এক হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। এদিন অবশ্য বিশ্ব রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন তরুণ ওপেনার।
একজন ব্যাটারের দায়িত্ব শুধু ব্যাট হাতে রান করা নয়। ফিল্ডার হিসেবেও নিজের সর্বোচ্চটুকু নিঙড়ে দেওয়া। এদিন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হাওয়ায় ভাসায় প্রতিটা খুঁজে নিয়েছে তামিমের ভরসার হাতকে। আইরিশদের বিপক্ষে ছয়-দশ এই পাঁচ উইকেটের সবগুলো ক্যাচই লুফে নিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম।
গোটা বিশ্বে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন ঘটনা ঘটেছে কেবল তিনবার। উইকেটরক্ষক ছাড়া এক ম্যাচে পাঁচ ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডে টেস্ট খেলুড়ে দেশের একমাত্র প্রতিনিধি তানজিদ হাসান তামিম। এমন বিরল রেকর্ড গড়ার দিনকে পরিপূর্ণ নিজের করে নিতে চেয়েছেন তানজিদ তামিম। সে কারণেই ফিফটিও হাঁকালেন আপন ঢঙে, আগ্রাসী মেজাজে।

প্রায় ১৫৩ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটিতে তিনটি সুবিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছেন বা-হাতি এই ব্যাটার। সেই সাথে আরও চারটি চারের মারও এসেছে তার ব্যাট থেকে। স্বল্প টার্গেটে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন তামিম ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে। মোটে ৪৫ ম্যাচের ছোট্ট টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যেই ১১তম হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়ে গেছেন তামিম। তার কনভারশন রেট সত্যিকার অর্থেই বেশ প্রশংসনীয়।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৬টি হাফসেঞ্চুরির মালিক লিটন দাস। তার এই পর্যায়ে আসতে সময় লেগেছে ১২০টি ম্যাচ। অতএব তামিমের অগ্রগতি, তার সামর্থ্য, তার ধারাবাহিকতা যে অভূতপূর্ব। ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতে তানজিদ তামিম বলেছিলেন, তিনি তামিম ইকবালের মত ব্যাটার হতে চান।
কিন্তু যে ধারায় এগিয়ে যাচ্ছেন জুনিয়র তামিম, তাতে করে সিনিয়র তামিমকে ছাড়িয়ে দূরত্ব যে বাড়িয়ে নেবেন কয়েক ক্রোশ- সে প্রত্যাশা করা মোটেও বাড়াবাড়ি নয়। চলার পথের প্রতিবন্ধকতাকে মিডউইকেট কিংবা, এক্সট্রা কাভারের উপর দিয়ে বাউন্ডারির ওপারে ফেলতে পারলেই তানজিদ তামিম হয়ে উঠবেন অনন্য।












