টেস্ট ক্রিকেট, তুমি সত্যিই অমর!

টেস্ট ক্রিকেটের জন্য কি দারুণ বিজ্ঞাপন। চতুর্থ ইনিংসে জাস্টিন গ্রিভসের দ্বিশতক—আর তার হাত ধরেই জন্ম নিলো স্মরণীয় এক টেস্ট কাহিনি। টেস্ট ইতিহাসে আগে মাত্র ৬ জন ব্যাটার এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন।

টেস্ট ক্রিকেটের জন্য কি দারুণ বিজ্ঞাপন। চতুর্থ ইনিংসে জাস্টিন গ্রিভসের দ্বিশতক—আর তার হাত ধরেই জন্ম নিলো স্মরণীয় এক টেস্ট কাহিনি। টেস্ট ইতিহাসে আগে মাত্র ৬ জন ব্যাটার এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন। সেই তালিকায় ক্রাইস্টচার্চে সপ্তম নাম হিসেবে যোগ হলো জাস্টিন গ্রিভসের—এবং তাও আবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, চাপের পাহাড় ভেঙে বাঁচানো এক ইনিংসে।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৬৭ রানে গুটিয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩১ রানের অতিকায় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তীব্র ধাক্কা খায়। স্কোরবোর্ডে যখন মাত্র ৭২ রানে ৪ উইকেট, তখন আরেকটা বড় হার শুধু সময়ের অপেক্ষা মনে হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ২২ গজে প্রবেশ করেন বার্বাডোজের ৩১ বছর বয়সী অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস—এবং তারপর ইতিহাস লেখা শুরু।

চতুর্থ ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি যেন, অনেকটা বলিউডের ডন ছবির মত। যাকে ধরা প্রায় অসম্ভব। সেটারই বাস্তব রূপ দিলেন জাস্টিন গ্রিভস। শাই হোপ আস্থা জুগিয়েছেন, আর শেষদিকে কেমার রোচ ছিলেন অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায়।

নিজের ঝড় থামিয়ে রোচ বারবার গ্রিভসকে বলেছিলেন, ‘চালিয়ে যাও, তুমি পারবে!’ সেই বিশ্বাসেই হয়তো গ্রিভস এ দিন অসম্ভবকে সম্ভব করলেন। মাঠে দাঁড়িয়ে তিনি দেখালেন—ক্যারিবিয়ানরা হয়তো একসময় অস্ত্র জমা দিয়েছে, কিন্তু লড়াইয়ের মানসিকতা কখনো ফুরোবে না।

উইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচিয়ে নিলো ড্র করে—আর সেই সঙ্গে টেস্ট ইতিহাসে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিলো এই ইনিংস, যা চতুর্থ ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহেরও সাক্ষী। অবিশ্বাস্য ভাবে ম্যাচ ড্র করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ম্যাচ শেষে গ্রিভস বলেন, ‘এটা আমার ও দলের জন্য বিশেষ দিন। কিমার রোচ সবসময় পাশে ছিল, গাইড করেছে। কোচ বলেছিলেন, উইকেটে থাকাই লক্ষ্য—আমি সেইটুকুই করেছি। ইতিহাসের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে, কিন্তু আমি দিনে দিনে খেলতে চাই।’

নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত বোলিং অ্যাটাক যত চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি গ্রিভস–রোচ দেয়াল। একেবারে ক্লাসিক টেস্ট ম্যাচ—উত্তেজনা, দক্ষতা, সাহস—সব মিলিয়ে বছরের সেরাদের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার মতো। শাই হোপ, কেমার রোচ, জাস্টিন গ্রিভস – সবার উদ্দেশ্যেই এখন ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানটা বাজানো উচিৎ! টেস্ট ক্রিকেট, তুমি সত্যিই অমর!

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link