বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হবেন কে?

নিজের প্রিয় দলের জার্সি গায়ে পছন্দের খেলোয়াড় যখন বল পায়ে ছুটে চলবেন, তখন যেকোনো ফুটবলপ্রেমীর অ্যাড্রেনালিন রাশ বেড়ে যেতে বাধ্য।

মেসি? নেইমার নাকি রোনালদো? নাকি কিলিয়ান এমবাপ্পে, অথবা আর্লিং হ্যালান্ড? আড়ালে ছক কষছেন ভিনিসিয়স জুনিয়র, রাফিনহা কিংবা জুলিয়ান আলভারেজ এমি মার্টিনেজরা, আলোচনায় আছেন নবাগত বিস্ময় লামিন ইয়ামালও। কে হবেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়?

গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ শুরু হওয়ার আর বাকি মাত্র কয়েকটা দিন। আমেরিকা, কানাডা আর মেক্সিকোর সবুজ গালিচায় বসতে যাচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসর। ৪৮ দেশ আর ১০৪টি ম্যাচের এই দীর্ঘ লড়াইয়ে বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে প্রস্তুত বিশ্বের সেরা সব খেলোয়াড়েরা। যেখান থেকে ফুটবলবোদ্ধারা বেছে নিয়েছেন সেরা ২৫ জনকে। যাদের পায়ের জাদু দেখতে পুরো পৃথিবী এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে।

এই বিশ্বযজ্ঞের মঞ্চে আলো ছড়াতে লড়বেন সময়ের সেরা মহাতারকারা। তালিকার ২৫ নম্বর থেকে শুরু করে লাউতারো মার্টিনেজ, জামাল মুসিয়ালা, ডেক্লান রাইস, থিবো কর্তোয়াদের মতো ফুটবলের পরীক্ষিত তারকারা আছেন এই তালিকায়। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগের প্রতিটি পজিশনেই যেন একেকজন খাঁটি ফুটবল শিল্পীর জমকালো মেলা বসেছে এবার।

লড়াইটা যখন শ্রেষ্ঠত্বের, তখন জুলিয়ান আলভারেজ কিংবা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো লাতিন আমেরিকান ফুটবলশিল্পীদের বাদ দেওয়া অসম্ভব। সাথে আছেন ক্যাভিন ডি ব্রুইনা আর জোয়াও নেভেসের মতো মাঝমাঠের কারিগররা। আর পর্তুগিজ সম্রাট ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য তো এই মঞ্চ নিজের ক্যারিয়ারের শেষ অমর কাব্য লেখার এক পরম সুযোগ।

মাঠের লড়াইকে আরও রোমাঞ্চকর করতে থাকছেন ফেদেরিকো ভালভার্দে, ভিতিনহা, আশরাফ হাকিমি এবং স্প্যানিশ জাদুকর পেদ্রি ও রদ্রি। প্রতিটি ম্যাচেই এই ফুটবলারদের ড্রিবলিং আর নিখুঁত পাসিং গ্যালারির গর্জনকে ছাপিয়ে যাবে। দর্শককে স্ক্রিনের সামনে ধরে রাখার জন্য এদের একেকজনের নামই যথেষ্ট।

তরুণ রক্ত আর অভিজ্ঞতার এক অবিশ্বাস্য মেলবন্ধন দেখা যাবে শীর্ষ দশে। ডেজায়ার দুয়ে, মাইকেল অলিসে, আর্লিং হালান্ড, রাফিনহা আর ব্রুনো ফার্নান্দেজের মতো তারকারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। এদের পায়ের ছোঁয়ায় প্রতিটি ম্যাচই রূপ নেবে একেকটি শ্বাসরুদ্ধকর ফুটবল মহাকাব্যে।

আর তালিকার শীর্ষ পাঁচে আছেন ব্রিটিশ তারকা হ্যারি কেইন। জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি আর ফর্মের চূড়ান্তে থাকা ওসমানে ডেম্বেলে। বর্তমান ফুটবলের নতুন বিস্ময় লামিনে ইয়ামালকে টপকে এই তালিকার সিংহাসনটি নিজের করে নিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। পন্ডিতদের মতে এই ২৫ জন ফুটবলারই মূলত নিয়ন্ত্রণ করবেন এবারের বিশ্বকাপের মূল হৃদস্পন্দন।

নিজের প্রিয় দলের জার্সি গায়ে পছন্দের খেলোয়াড় যখন বল পায়ে ছুটে চলবেন, তখন যেকোনো ফুটবলপ্রেমীর অ্যাড্রেনালিন রাশ বেড়ে যেতে বাধ্য। সব দলগুলোই প্রস্তুত নিজেদের সেরাটা নিয়ে, গ্যালারিতে দর্শকেরাও তৈরি উল্লাসে ফেটে পড়তে। এখন শুধু অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন বল পায়ে শুরু হবে বিশ্বজয়ের আসল মহাকাব্য।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link