ম্যাচ শেষ। স্কোরবোর্ড বলে দিচ্ছে—বাংলাদেশ হেরে গেছে। কিন্তু বাইশ গজের সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার আর নেই, নেই কোনো উত্তেজনা কিংবা রেষারেষি। খেলার মাঠ তখন শুধুই একটা মাঠ, যেখানে প্রতিপক্ষ মানে শত্রু নয়, বরং একে অপরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ। আর সেই শিক্ষার সন্ধানেই মোহাম্মদ শামির কাছে হাজির তাসকিন আহমেদ।
দুবাইয়ের গরম হাওয়া বয়ে চলেছে, কিন্তু দুই সিম বোলার তখন অন্য এক আলোচনায় ব্যস্ত। শামির হাতের ইশারা, তাসকিনের মনোযোগী দৃষ্টি—বুঝতে বাকি থাকে না, আলোচনা চলছে বলের সিম পজিশন নিয়ে। কীভাবে বল ছাড়লে তা বাতাস চিরে বেরিয়ে যাবে?

কীভাবে নিখুঁত রিস্ট পজিশন ধরে রেখে সুইং আদায় করা যায়? হয়তোবা শামি তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে কিছু গোপন সূত্র শেয়ার করছিলেন, আর তাসকিন শ্রবণের সমস্ত ইন্দ্রিয় খুলে নিচ্ছিলেন সেই পাঠ।
এই মুহূর্তেই বোঝা যায়, কেন মোহাম্মদ শামিকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম সেরা সিম বোলার। রিস্ট পজিশন থেকে নিখুঁত সিম মুভমেন্ট—এমন শিল্পীর কাছ থেকে শেখার সুযোগ কি সহজে আসে? তাসকিনও জানেন, নিজের অস্ত্রকে আরও ধারালো করতে হলে এই পাঠশালায় হাজিরা দিতেই হবে।

কিন্তু এই দৃশ্যটাই সবচেয়ে অনন্য। যেখানে ম্যাচের ফলাফল মুছে যায়, যেখানে দুই দেশের সীমান্তরেখা অর্থহীন হয়ে পড়ে, যেখানে রেষারেষির জায়গা নেয় পারস্পরিক শ্রদ্ধা। সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়তো এদিন হাজারো শব্দের লড়াই চলেছে, কিন্তু মাঠে দাঁড়িয়ে শামি আর তাসকিন যেন দেখিয়ে দিলেন—ক্রিকেট আসলে এক অভিন্ন ভাষা, যেখানে শেখার কোনো শেষ নেই, প্রতিপক্ষও হয়ে ওঠে গুরু।
ঠিক যেমন রোহিত শর্মার জুতোর ফিতা বেঁধে দিয়েছিলেন জাকের আলী। হয়তো ছোট্ট এক মুহূর্ত, কিন্তু এমন মুহূর্তগুলোই তো ক্রিকেটকে আরও বড় করে তোলে! জয়-পরাজয়ের পারদ ছাপিয়ে যে খেলাটা শেখায় শ্রদ্ধা আর বন্ধুত্বের সংজ্ঞা, সেই খেলাই তো সত্যিকারের খেলা।

শেষ পর্যন্ত, স্কোরবোর্ড কেবল একটা সংখ্যা বলে দেয়। কিন্তু এমন কিছু দৃশ্য থেকে যায়, বাড়িয়ে দেয় ক্রিকেটের সৌন্দর্য্য!










