মেঘের বাধা উড়িয়ে ফরাসি বরপুত্রের রাজকীয় হুঙ্কার

কিলিয়ান এমবাপ্পে—ফরাসি ফুটবলের সেই ঝলমলে নাম, যিনি ইরাকের বিপক্ষে নিজের শততম ম্যাচে দাঁড়িয়ে ক্যারিয়ারের এক মহাকাব্যিক অধ্যায় লিখলেন। প্রকৃতির বজ্রঝড়ের কারণে খেলা সাময়িক থমকে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এমবাপ্পের গতি আর গোলের ক্ষুধা থামেনি। বিরতি শেষে মাঠে ফিরে তিনি যেন নিজেই এক ঝড় হয়ে আছড়ে পড়লেন প্রতিপক্ষের ওপর।

কিলিয়ান এমবাপ্পে—ফরাসি ফুটবলের সেই ঝলমলে নাম, যিনি ইরাকের বিপক্ষে নিজের শততম ম্যাচে দাঁড়িয়ে ক্যারিয়ারের এক মহাকাব্যিক অধ্যায় লিখলেন। প্রকৃতির বজ্রঝড়ের কারণে খেলা সাময়িক থমকে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এমবাপ্পের গতি আর গোলের ক্ষুধা থামেনি। বিরতি শেষে মাঠে ফিরে তিনি যেন নিজেই এক ঝড় হয়ে আছড়ে পড়লেন প্রতিপক্ষের ওপর।

প্রথম গোলটি ছিল নিখুঁত টাইমিং আর শারীরিক দক্ষতার এক দুর্দান্ত মিশ্রণ—ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বল পাঠালেন জালে। আর দ্বিতীয় গোলটি ছিল আরও বেশি প্রতীকী; কারণ এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র ২ ম্যাচেই তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৪-এ। একই সাথে এই গোলটি তাঁকে পৌঁছে দিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে। ১৬ গোল নিয়ে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড। এখন তাঁর সামনে শুধুই লিওনেল মেসি—যার থেকে এমবাপ্পে পিছিয়ে আছেন মাত্র ২ গোলের দূরত্বে।

১৮ গোল নিয়ে মেসি এখন বিশ্বমঞ্চের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আর মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বমঞ্চে ১৬ গোল নিয়ে তাঁর ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছেন এমবাপ্পে। এই দৌড়টা যেন সময়ের সঙ্গে এক রূপকথার প্রতিযোগিতা—একজন জীবন্ত কিংবদন্তি যখন তাঁর শেষ অধ্যায় লিখছেন, অন্যজন তখন নিজেকে নতুন কিংবদন্তি হিসেবে মেলে ধরছেন।

ফ্রান্সের জার্সিতে শততম ম্যাচে এমন জোড়া গোল এবং চলতি বিশ্বকাপেই ৪ গোল করে গোল্ডেন বুটের রেসে নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া—এমন নাটকীয় স্ক্রিপ্ট হয়তো কেবল এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড়ের পক্ষেই লেখা সম্ভব। দর্শকরা যখন বজ্রঝড়ের পর গ্যালারিতে ফিরে এলেন, তাঁরা দেখলেন মাঠের বুকে অন্য এক ঝড়—এমবাপ্পের পায়ের ঝড়।

ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত হলো ঠিকই, তবে আসল জয় হলো এমবাপ্পের নিজের। তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন, সময়ের স্রোতে এক নতুন ফুটবল ঈশ্বরের জন্ম হচ্ছে। আজকের রাতটা তাই  ফ্রান্সের নয়, রাতটা শুধুই এমবাপ্পের।

 

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link