দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছেন। চলতি আইপিএলের আগে খেলেননি একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছোট সংস্করণে তার প্রভাব কিছুটা কমে এসেছে। কিন্তু, রাজার প্রতাপ কি চাইলেই কমানো যায়। বিরাট কোহলি আবারও মনে করিয়ে দিলেন, বড় মঞ্চের সবচেয়ে উজ্জ্বল আলোটা এখনও তার দিকেই পড়ে।
আইপিএলের ফাইনালের মতো বিরাট চাপের ম্যাচে তিনি খেললেন নিজের আইপিএল ক্যারিয়ারের দ্রুততম ফিফটির ইনিংস। উনিশতম আইপিএল মৌসুমে এসে এমন কীর্তি যেন কোহলির ক্ষুধা আর শ্রেষ্ঠত্বের নতুন প্রমাণ। যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই দলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি।

শুধু ফাইনাল নয়, পুরো মৌসুমেই ছিলেন অসাধারণ ধারাবাহিক। ৬৭৫ রান, একটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি ফিফটি—সংখ্যাগুলোই বলে দেয় কতটা প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। ৫৬.২৫ গড় এবং ১৬৫.৮৪ স্ট্রাইক রেটে রান করে তিনি প্রমাণ করেছেন, বয়স বাড়লেও তার ব্যাটের ধার এতটুকু কমেনি।
ক্রিকেটে কিছু খেলোয়াড় থাকেন, যাদের উপস্থিতিই ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে পারে। বিরাট কোহলি সেই বিরল শ্রেণির একজন। বিরাট কোহলি বড় ম্যাচের খেলোয়াড়, বিরাট কোহলি ক্রিকেট নামক ভদ্রলোকের খেলার অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন।

শেষ পর্যন্ত আইপিএল ট্রফিটাও যেন আর নিজেকে আটকে রাখতে পারেনি। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো মাথা নত করেছে বিরাট কোহলির সামনে। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি দেখিয়ে চলেছেন, ফরম্যাট বদলাতে পারে, সময় এগিয়ে যেতে পারে, কিন্তু বড় মঞ্চে বিরাট কোহলির গুরুত্ব কখনও ফুরিয়ে যায় না। রাজা কখনও হারিয়ে যান না, তারা শুধু নতুনভাবে নিজেদের রাজ্য জয়ের গল্প লেখেন।










