সাইফউদ্দিনের লাইফলাইন ফুরিয়ে আসছে?

ই কোচের এমন যত্নই বরং বলে দিচ্ছে- সাইফউদ্দিনের গুরুত্ব ঠিক কতটুকু। তবুও হয়ত হতাশার ধূসর মেঘের ভেলায় করে সাইফের জন্য সংক্ষিপ্ত হয়ে যেতে পারে জাতীয় দলের এবারের সফর। 

শন টেইট তীক্ষ্ম নজর রেখেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সাথে। মাঝেমধ্যে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও এসে, টুকটাক সলাপরামর্শ করে নিচ্ছেন সাইফউদ্দিনের সাথে। দুই কোচের এমন যত্নই বরং বলে দিচ্ছে- সাইফউদ্দিনের গুরুত্ব ঠিক কতটুকু। তবুও হয়ত হতাশার ধূসর মেঘের ভেলায় করে সাইফের জন্য সংক্ষিপ্ত হয়ে যেতে পারে জাতীয় দলের এবারের সফর।

দীর্ঘ দুই বছরের একটা বিরতি কাটিয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আবারও জাতীয় দলে ফিরেছিলেন ২০২৪ সালের শেষভাগে। কোমড়ের ইনজুরি তার সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারকে রীতিমত স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। সেই ইনজুরি ছাপিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে তার শুরু হয় প্রত্যাবর্তনের নতুন অধ্যায়।

তবে সেই অর্থে চোখ ধাঁধানো কিছু এখনও করে দেখাতে পারেননি সাইফউদ্দিন। পাশাপাশি টিম কম্বিনেশনের কারণে একটানা সুযোগও পাওয়া হচ্ছে না তার। সে কারণে পুনর্জাগরণের যাত্রা সংক্ষিপ্ত হওয়ার একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে বটে। সাইফউদ্দিন কি সেটা টের পাচ্ছেন? তিনি না পেলেও, দলের কোচিং প্যানেল নিশ্চয়ই আন্দাজ করে ফেলেছে।

পুনঃরায় জাতীয় দলে ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ১১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেছেন সাইফউদ্দিন। উইকেট ১৬টি পুরেছেন নিজের পকেটে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ৪ ম্যাচে তার শিকার ছিল আট উইকেট। এরপরের ছয় ম্যাচে সমপরিমাণ উইকেট গিয়েছে তার ঝুলিতে।

কিন্তু তিনি যে এখন দলের মূল পরিকল্পনার অংশ নন, সে প্রমাণ মিলেছে সর্বশেষ এশিয়া কাপে। ভারতের বিপক্ষে স্রেফ একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল তার। সেই ম্যাচেও তিনি দুর্দান্ত কিছু করে দেখাতে হয়েছেন ব্যর্থ। দলের বিরুদ্ধে সর্বাধিক রান খরচা করেছিলেন তিনি। ৩৭ রানের বিনিময়ে স্রেফ হার্দিক পান্ডিয়াকে ফেরাতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

এরপরের আফগানিস্তান সিরিজে তিনি একটি ম্যাচে উইকেট শূন্য থেকেছেন, আরেকটি ম্যাচে নিয়েছিলেন তিনটি উইকেট। সাইফউদ্দিনের  বোলিংটাই ঘুরে ফিরে আসছে আলোচনায়। কেননা ব্যাট হাতে তার সক্ষমতার ব্যবহার করা হচ্ছে না। ১১ ম্যাচের মধ্যে স্রেফ ৪ ইনিংসই ব্যাট হাতে নামার সুযোগ হয়েছিল। অতএব তার ব্যাটিং সক্ষমতা বিবেচিত হচ্ছে না।

সুতরাং বল হাতেই বরং সাইফউদ্দিনকে বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে। জাতীয় দলে নিজের জায়গা তাকেই থিতু করতে হবে। সে জন্য সম্ভবত শন টেইট একটু এক্সট্রা কেয়ার নিচ্ছেন সাইফের- শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সুযোগ পেলে তার সর্বোচ্চটুকুই কাজে লাগাতে হবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link