আইপিএল ২০২৬ নিলাম: কেকেআরের পুনর্জাগরণের লড়াই

এই তিনজনের উপর ভরসা রাখলে কেকেআর আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এক মৌসুমের ব্যর্থতা কখনোই কোনো ক্রিকেটারের মানদণ্ড হতে পারে না, কেকেআরও কি তাই বিশ্বাস করবে?

আইপিএল ২০২৬-এর নিলাম যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। জানা গেছে, ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে নিলামটি, আর নভেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যেই দলগুলোকে খেলোয়াড় ধরে রাখার তালিকা জমা দিতে হবে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা—কাকে রাখা হবে, কাকে বাদ দেওয়া হবে।

গত মৌসুমের পারফরম্যান্স বিচার করলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) হয়তো এবার সবচেয়ে ব্যস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি হতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২৫ মৌসুমে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ—পয়েন্ট টেবিলে শেষ করেছে অষ্টম স্থানে।

কয়েকজন মূল খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত কাল হয়েছিল।  তাই ২০২৬-এর আগে তাদের আরও সতর্ক, কৌশলী হতে হবে—খারাপ ফর্ম থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।

হার্ষিত রানা ছিলেন কেকেআরের ২০২৪ সালের শিরোপা জয়ের অন্যতম কারিগর। তরুণ এই পেসার ২০২৫ মৌসুমে তেমন আলো ছড়াতে না পারলেও তার সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ১৩ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন, কিন্তু গড় ২৯.৮৬ এবং ইকোনমি রেট ১০.১৮—যা তার মানের সঙ্গে যায় না।

তবে মাত্র ২৩ বছর বয়সেই রানা ভারতের ক্রিকেটে ভবিষ্যতের বড় সম্পদ হিসেবে উঠে এসেছেন। নতুন বলে কিংবা ডেথ ওভারে—সব পর্যায়েই তিনি কার্যকর। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও দলকে বাড়তি কিছু দিতে পারেন। কেকেআরের উচিত এই তরুণ পেসারের উপর আরও আস্থা রাখা, কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে আরও পরিণত হবে।

অন্যদিকে আন্দ্রে রাসেল—টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কিংবদন্তি, কিন্তু বয়স ও ফিটনেস এখন তার সবচেয়ে বড় শত্রু। ২০২৫ মৌসুমে ১৩ ম্যাচে মাত্র ১৬৭ রান ও ৮ উইকেট, ব্যাটিং গড় ১৮.৫৫, বোলিং ইকোনমি ১১.৯৪—এমন পরিসংখ্যান কোনোভাবেই রাসেলের নামের পাশে মানায় না।

কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, অতীতে অসংখ্যবার তিনি একার হাতে কেকেআরকে ম্যাচ জিতিয়েছেন। তার ব্যাটে এখনো আছে আগুন, আর সঠিক দিনে সেই আগুনে পুড়ে যেতে পারে প্রতিপক্ষ। আইপিএলে ২৬৫১ রান, স্ট্রাইক রেট ১৭৪.১৭, সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা—এই প্যাকেজকে এত সহজে ছেড়ে দেওয়া বোকামি হবে। কেকেআরের উচিত রাসেলের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো, কারণ সে এখনো এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি একা ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

কুইন্টন ডি ককের নামও আলোচনায় আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই উইকেটকিপার-ব্যাটার ২০২৫ আইপিএলে একেবারেই ছন্দে ছিলেন না—৮ ম্যাচে ১৫২ রান, গড় ২১.৭১, স্ট্রাইক রেট ১২৯.৯১। মাত্র একটি ফিফটি পেয়েছেন পুরো মৌসুমে। তবুও, তার ক্লাস ও সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

একবার সেট হয়ে গেলে যেকোনো বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারেন ডি কক। আইপিএলে তার মোট রান ৩৩০৯, গড় ৩০.৬৩, সঙ্গে দুইটি সেঞ্চুরি ও ২৪টি ফিফটি—সংখ্যাগুলোই বলে দেয় কেন তিনি এখনো একটি নির্ভরযোগ্য নাম। খারাপ এক মৌসুমের জন্য এমন একজন বিশ্বমানের ওপেনারকে ছেড়ে দেওয়া হবে কৌশলগত ভুল।

সব মিলিয়ে, ২০২৫ মৌসুমের ব্যর্থতা কেকেআরকে কঠিন এক বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। হার্ষিত রানার তরুণ উদ্যম, রাসেলের অভিজ্ঞতা আর ডি ককের আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটিং—এই তিনজনের উপর ভরসা রাখলে কেকেআর আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এক মৌসুমের ব্যর্থতা কখনোই কোনো ক্রিকেটারের মানদণ্ড হতে পারে না, কেকেআরও কি তাই বিশ্বাস করবে?

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link